ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার সকালে সংসদ চত্বরে মুখোমুখি সংঘাতে জড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টু। একে অপরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘দেশের শত্রু’ বলে কটাক্ষ করায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক আবহ। এক সময়ের সতীর্থদের এই সৌজন্যহীন আচরণ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বাজেট অধিবেশনে আট বিরোধী সাংসদের সাসপেনশনের প্রতিবাদে সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কংগ্রেস সাংসদরা। সেই সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা তথা বর্তমান বিজেপি মন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টু। তাঁকে দেখেই রাহুল গান্ধী টিপ্পনি কেটে বলেন, “দেখুন, এক বিশ্বাসঘাতক বন্ধু হেঁটে যাচ্ছেন। এর মুখটা ভালো করে চিনে রাখুন।” এর পরেই রাহুল হাত বাড়িয়ে বিট্টুকে বলেন, “কেমন আছো ভাই? আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা করো না, তুমি একদিন ঠিকই কংগ্রেসে ফিরে আসবে।”
রাহুল গান্ধীর করমর্দনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি পাল্টা জবাবে বলেন, “দেশের শত্রু।” পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিট্টু অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “যখন উনি হাত বাড়িয়েছিলেন, আমি মুখের ওপর বলেছি, আপনারা দেশদ্রোহী এবং দেশের শত্রু। যারা প্রতিদিন সেনাবাহিনী এবং দেশের নিন্দা করে, তাদের সঙ্গে কোনো সর্দার হাত মেলাবে না। শিখ হত্যাকারী গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরির সঙ্গে হাত মেলানোর প্রশ্নই ওঠে না।” বিট্টু আরও যোগ করেন, ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টার এবং শিখ দাঙ্গার স্মৃতি কোনো শিখ ভুলতে পারে না।
এই ঘটনায় ঘি ঢেলেছেন বিজেপি নেতা মনজিন্দর সিং সিরসা। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী এবং গান্ধী পরিবারই প্রকৃত বিশ্বাসঘাতক। কোনো শিখ বা সর্দার কখনও বিশ্বাসঘাতক হতে পারে না।”
অন্যদিকে, কংগ্রেসও রাহুল গান্ধীর হয়ে সাফাই দিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং বলেন, “যিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাঁকে এই নামেই ডাকা উচিত। বিট্টুকে কে সাংসদ বানিয়েছিল তা সবার জানা। বিরোধী দলনেতাকে যখন বলতে দেওয়া হয় না, তখন এ ছাড়া আর কী বলা যায়?” উল্লেখ্য, লোকসভায় নিয়ম লঙ্ঘন এবং চেয়ারের দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে কংগ্রেসের সাতজন এবং সিপিএমের একজন সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই আজ কংগ্রেস সাংসদরা জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে এই নজিরবিহীন বাদানুবাদ ঘটে।
