ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের এজলাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলায় নিজেই সওয়াল করেন তিনি।
এদিন শুনানির শুরুতে অত্যন্ত উত্তেজিত কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিচার আজ রুদ্ধদ্বারে কাঁদছে।” তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে মাত্র ৫ মিনিট কথা বলার অনুমতি চেয়েছিলেন, তবে আদালত তাঁকে ১৫ মিনিট সময় দেয়। সওয়াল করতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, “আমরা কোথাও বিচার পাচ্ছি না। আমি নির্বাচন কমিশনকে ছয়বার চিঠি লিখেছি, কিন্তু একটিরও উত্তর পাইনি।”
এদিন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভিএম পাঞ্চোলির বেঞ্চ মমতার আবেদনকে ‘যৌক্তিক’ বলে মেনে নেয়। মুখ্যমন্ত্রী লিখিতভাবে জানান যে, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী এবং তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারীর (দেব) মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই বিশেষ সংশোধনীর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ আদালত নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা করে বলে, “আপনাদের অফিসারদের একটু সংবেদনশীল হতে বলুন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভাষা বা বানানের সামান্য ভুলের অজুহাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন বা ঠিকানা বদল করলে মহিলাদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অন্য রাজ্যে ডোমিসাইল বা কাস্ট সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হলেও বাংলার ক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণ করা হচ্ছে না। সামনেই নির্বাচন, এই আবহে কেন হঠাৎ ২৪ বছর পর মাত্র তিন মাসের মধ্যে তড়িঘড়ি এই কাজ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই প্রচণ্ড কাজের চাপে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অনেক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) রয়েছেন। তিনি বলেন, “যখন ফসল কাটার সময়, মানুষ যাতায়াত করছে, তখন কেন এই তৎপরতা? আসামে কেন এমনটা হচ্ছে না?” শুনানির শেষে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে হাত জোড় করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাকে বুলডোজ করা হচ্ছে। স্যার, দয়া করে মানুষের অধিকার রক্ষা করুন।” আদালত এই মামলার শুনানি শেষ করে রায় স্থগিত রেখেছে। তবে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার এবং সাধারণ মানুষের যাতে হয়রানি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
