TOP NEWS

১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আসছে সম্পূর্ণ নতুন IRCTC ওয়েবসাইট: জয়পুরে ছাত্রের অভিযোগে লাইভ ফোন রেলমন্ত্রীর

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন এবং উন্নত মানের আইআরসিটিসি ওয়েবসাইট দেশবাসীর উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করা হবে। রাজস্থানের জয়পুরে মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-র শিক্ষার্থীদের সাথে একটি আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বয়ং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই বড় ঘোষণাটি করেছেন।

অনুষ্ঠানে এক ছাত্রের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী যেভাবে তৎক্ষণাৎ মঞ্চ থেকেই রেলের শীর্ষ আধিকারিককে ফোন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন ওয়েবসাইট চালুর নির্দেশ দেন। সেই ভিডিওটি বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। রেলমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হাততালি দিয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটির শুরুতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী রেলমন্ত্রীর কাছে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের ফেস করা একটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্যার, দয়া করে আইআরসিটিসি-র ক্যাপচা সমস্যার সমাধান করুন।”

অভিযোগ শোনা মাত্রই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পকেট থেকে ফোন বের করে সরাসরি রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে ডায়াল করেন। স্পিকারে ফোন রেখে মন্ত্রী বলেন, “এখানে সমস্ত ছাত্ররা দাবি করছে যে আইআরসিটিসি-র একটি নতুন ওয়েবসাইট হওয়া উচিত।” এরপরই তিনি আধিকারিককে প্রশ্ন করেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কি নতুন ওয়েবসাইটটি মোতায়েন বা চালু করা সম্ভব? ওপার থেকে সবুজ সংকেত মিলতেই মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জানান, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই নতুন পোর্টালটি চলে আসবে।

 

প্রতিদিন দেশজুড়ে লাখ লাখ যাত্রী ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য আইআরসিটিসি-র ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বিশেষ করে সকালের দিকে ‘তৎকাল’ টিকিট বুকিংয়ের পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপে সাইট থমকে যাওয়া বা ক্র্যাশ করা একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ওটিপি না আসা বা ভুল ক্যাপচার কারণে টিকিট হাতছাড়া হওয়ার জেরে যাত্রীদের ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের। উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাস থেকে তৎকাল স্কিমের অধীনে টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন কেবল বায়োমেট্রিক বা সরকারি পরিচয়পত্র-দ্বারা যাচাইকৃত বা অথেনটিকেটেড ব্যবহারকারীরাই তৎকাল টিকিট বুক করতে পারেন। এই কড়াকড়ির অংশ হিসেবে, বিগত ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে জালিয়াতির অভিযোগে ৩.০৪ কোটি আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং ২.৯৪ কোটি অ্যাকাউন্টকে সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

২০০২ সালে ভারতীয় রেল যখন প্রথম অনলাইন টিকিট সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছিল, তখন থেকেই ধীরে ধীরে ডিজিটাল বুকিং পুরো ব্যবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। রেল আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাউন্টারে গিয়ে সশরীরে টিকিট কাটার চেয়ে প্রায় ৮৮ শতাংশ ট্রেনের টিকিট অনলাইনেই বুক করা হয়। ফলে নতুন ওয়েবসাইটের আগমন এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ করবে। টিকিট বুকিংয়ের পাশাপাশি রেলের খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা বাড়াতেও আইআরসিটিসি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই আইআরসিটিসি জানিয়েছে, ট্রেনের প্যান্ট্রি ও রেলওয়ে স্টেশনের খাবারের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে।

দেশজুড়ে থাকা আইআরসিটিসি-র ৮০০-রও বেশি বেস কিচেন বা রান্নাঘরকে ২,৩৯৪টি এআই-চালিত ক্যামেরার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন দিল্লিতে অবস্থিত একটি কেন্দ্রীয় ‘ওয়ার রুম’ থেকে ২৪ ঘণ্টা এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে খাবার তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই উন্নত এআই সিস্টেমটি রান্নাঘরের মোট ৯ ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত করতে পারে, যা ট্রেনের খাবারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!