TOP NEWS

অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিএ-র বাজিমাৎ! বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় নির্বাচিত তেলুগু দেশম ও জনসেনার ৪ প্রার্থী

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্যের শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। কোনো রকম লড়াই ছাড়াই জোটের চারজন প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী আধিকারিক বা রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করেন। নির্বাচিত এই চার প্রার্থীর মধ্যে তিনজন তেলুগু দেশম পার্টি (TDP) এবং একজন জনসেনা পার্টি (JSP)-র সদস্য। চার আসনের জন্য অন্য কোনো দল বা নির্দল প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় কোনো ভোটের প্রয়োজন পড়েনি।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪ সাংসদ হলেন- টিডিপির সানা সতীশ বাবু, ভাষ্যম রামকৃষ্ণ, বিজয় চিন্তাকায়লা এবং জেএসপির লিঙ্গামনেনী রমেশ। উল্লেখ্য, এই চার আসনের জন্য আগামী ১৮ জুন ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু স্ক্রুটিনি ও নাম প্রত্যাহারের পর্ব মিটতেই ভোটের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকল না। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার এই চারটি আসন মূলত শূন্য হয়েছিল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-র তিন সাংসদ—আল্লা অযোধ্যা রামি রেড্ডি, নাথওয়ানি পরিমল, পিল্লি সুভাষচন্দ্র বোস এবং টিডিপি-র সানা সতীশ বাবুর মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে। বিধানসভায় বিপুল আসন সংখ্যা থাকার সুবাদে এবার এই চারটি আসনই নিজেদের ঝুলিতে পুরল শাসক জোট।

অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় শাসক জোটের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণেই বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দাঁড় করানোর সাহস দেখায়নি। রাজ্যের ১৭৫ সদস্যের বিধানসভায় চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি-র একারই রয়েছে ১৩৫টি আসন। জোটসঙ্গী জনসেনার ২১টি এবং বিজেপির ৮টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক শাসক দল ওয়াইএসআরসিপি (YSRCP) মাত্র ১১টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়ায় রাজ্যসভার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বিধায়কের সমর্থন তাদের ছিল না। ফলে এনডিএ-র এই ক্লিন সুইপ বা সম্পূর্ণ জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।

নির্বাচিত চার প্রার্থীর মধ্যে কেবল সানা সতীশ বাবু দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্যসভায় যাচ্ছেন, বাকি তিনজনই প্রথমবার সংসদের উচ্চকক্ষে পা রাখছেন। সানা সতীশ বাবু টিডিপি-র জাতীয় কার্যকরী সভাপতি নারা লোকেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী তথা রাজনীতিবিদ কাপু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পেলেও, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াইএসআরসিপি-র মোপিদেবী ভেঙ্কটরমনের ইস্তফার পর হওয়া উপনির্বাচনে দল তাঁকে প্রথমবার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। এবার পূর্ণ মেয়াদের জন্য তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেন।

ভাষ্যম রামকৃষ্ণ তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার বিখ্যাত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ভাষ্যম গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোগী। তিনি রাজ্যের প্রভাবশালী কাম্মা সম্প্রদায়ের মানুষ, যে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। ২০২৪-এ গুন্টুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট পাওয়ার রেসে থাকলেও সমীকরণের কারণে তিনি সুযোগ পাননি।

বিজয় চিন্তাকায়লা অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভার স্পিকার আয়্যান্না পাত্রুদুর ছেলে বিজয় উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের অনগ্রসর শ্রেণী বা ওবিসি সম্প্রদায়ের এক তরুণ নেতা। তিনিও নারা লোকেশের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অংশ। আনাকাপল্লী আসনটি জোটের খাতিরে বিজেপি-কে ছাড়তে হওয়ায় তিনি লোকসভায় দাঁড়াতে পারেননি, এবার দল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাল।

লিঙ্গামনেনী রমেশ ২০১৫ সাল থেকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ তথা উপ-मुख्यमंत्री পবন কল্যাণের দল জনসেনার সাথে যুক্ত রয়েছেন রমেশ। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় প্রথমবার খাতা খুলল জনসেনা পার্টি।

অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় শাসক জোটের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণেই বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দাঁড় করানোর সাহস দেখায়নি। রাজ্যের ১৭৫ সদস্যের বিধানসভায় চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি-র একারই রয়েছে ১৩৫টি আসন। জোটসঙ্গী জনসেনার ২১টি এবং বিজেপির ৮টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক শাসক দল ওয়াইএসআরসিপি (YSRCP) মাত্র ১১টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়ায় রাজ্যসভার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বিধায়কের সমর্থন তাদের ছিল না। ফলে এনডিএ-র এই ক্লিন সুইপ বা সম্পূর্ণ জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!