ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বাজেটে কার্যত দরাজ হস্ত রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সিভিক ভলেন্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির একগুচ্ছ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’ নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিল নবান্ন।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাঁদের মাসিক বেতন ১০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও তাঁদের জন্য একগুচ্ছ বাড়তি সুবিধার কথা জানানো হয়েছে, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ ৩ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ বহাল রাখা হয়েছে (যা আগে ছিল ১০ শতাংশ)। এই খাতে এবার অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প। সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এটি চালু হবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের জেরে এবার বড় সুরাহা পেলেন রাজ্যের আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়িকাদের মাসিক বেতন ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য বাজেটে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে শাসক দল। বিশেষ করে সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং আশা কর্মীদের মতো বড় ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার পাশাপাশি নতুন ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছেও পৌঁছানোর কৌশল নিল রাজ্য সরকার।
