ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে ‘মিয়া’ (Miya) সম্প্রদায়ের প্রতি ক্রমাগত উসকানিমূলক এবং ঘৃণা ভাষণ (Hate Speech) দেওয়ার অভিযোগে আদালতের দারস্থ হলেন রাজ্যের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ হীরেন গোহাইন এবং প্রাক্তন পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) হরেকৃষ্ণ ডেকাসহ অসমের সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি দল এই বিষয়ে গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আদালত যেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Moto) মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রধান বিচারপতিকে লেখা ওই চিঠিতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকাশ্য জনসভায় এবং প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট জনজাতিকে লক্ষ্য করে এমন সব মন্তব্য করছেন যা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী। বিশিষ্টজনরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই তথাকথিত ‘মিয়া’ সম্প্রদায়ের মানুষ অসমীয়া ভাষা গ্রহণ করে এবং অসমীয়া সংস্কৃতির সাথে মিশে গিয়ে বৃহত্তর অসমীয়া সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর মন্তব্যগুলি একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ‘অমানুষ’ হিসেবে তুলে ধরা, তাঁদের ওপর কলঙ্ক লেপন করা এবং রাষ্ট্রীয় মদতে হয়রানির হুমকির শামিল।
বিশিষ্টদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির কাছ থেকে এই ধরনের ঘৃণা ভাষণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তাঁরা দাবি করেছেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও অসমে তার লঙ্ঘন হচ্ছে। হীরেন গোহাইন এবং হরেকৃষ্ণ ডেকাসহ অন্যান্য স্বাক্ষরকারীরা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিচারবিভাগের উচিত এখনই হস্তক্ষেপ করা, অন্যথায় এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অসমের বিভিন্ন সভায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ‘মিয়া’ সম্প্রদায়ের আগ্রাসন নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি হস্তক্ষেপ চাইল রাজ্যের বিশিষ্ট সুশীল সমাজ।
