TOP NEWS

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল ও ইউনূসের পদত্যাগ চাইলেন শেখ হাসিনা: দাবি করলেন “অবৈধ” নির্বাচন

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ দাবি করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এই নির্বাচনকে “ছলনাময়”, “ভোটবিহীন”, “অবৈধ” এবং “অসাংবিধানিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন হাসিনা।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তাঁর দল—আওয়ামী লীগ—এবং সাধারণ ভোটারদের ছাড়াই এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমরা এই ভোটবিহীন, অবৈধ এবং অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল এবং ইউনূসের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।”

দলের পক্ষ থেকে তিনি বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন—

১. আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ অন্যান্য শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার এবং তাদের মুক্তি।

২. আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

৩. একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আয়োজন করে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করা।

হাসিনা দাবি করেছেন, ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অংশের ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য ছিল। তাঁর বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। ভোটের সর্বোচ্চ সময়ে এই কম অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানকে উপেক্ষা করার অভিযোগ এনেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, “১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনার জন্য টাকার ব্যাপক ব্যবহার, ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রহসন শুরু হয়েছে।” হাসিনা আরও অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে “জোর করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার” জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টিকে “প্রশ্নবিদ্ধ এবং অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহের ব্যাপক গণআন্দোলনের পর গত বছর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। তাঁর দলকে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ১২ কোটি ৭০ লক্ষাধিক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!