ডেইলি ডোমকল, গুয়াহাটি: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার দাবি করেছেন, রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো হিন্দু বা অসমিয়া মুসলিমকে নোটিশ পাঠানো হয়নি।
নলবাড়ি জেলায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই অভিযানে শুধুমাত্র ‘মিয়াঁ’ (বাংলাভাষী মুসলিম)-দেরই নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি তাদের “চাপে রাখার” একটি কৌশল। শর্মা বলেন, “SIR নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কোন হিন্দু নোটিশ পেয়েছেন? কোন অসমিয়া মুসলিম নোটিশ পেয়েছেন? নোটিশ পাঠানো হয়েছে মিয়াঁ এবং ওই ধরণের লোকেদের, নয়তো তারা আমাদের মাথার ওপর চড়ে বসবে।” প্রসঙ্গত, অসমে ‘মিয়াঁ’ শব্দটি সাধারণত বাংলাভাষী মুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যাদের একটি বড় অংশকে অনেকেই বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে দাগিয়ে দেয়।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই SIR প্রক্রিয়াকে ঘিরে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, ‘বিজেপি এজেন্ট’দের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হেনস্থা করার জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম ৭’ (Form No. 7) ব্যাপকভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
উল্লেখ্য, ফর্ম ৭ ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি তিনটি কারণে নিজের নাম কাটার আবেদন করতে পারেন: স্থায়ীভাবে স্থান পরিবর্তন, অন্য কোথাও নাম থাকা অথবা ভারতীয় নাগরিক না হওয়া। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের যে কোনো ভোটার মৃত্যু, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, অনুপস্থিত থাকা বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে অন্য কারো নাম কাটার আবেদন করতে পারেন। অবশ্য নাম কাটার আগে কর্তৃপক্ষের শুনানি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। ইতিমধ্যেই বকো-ছায়গাঁও বিধানসভা কেন্দ্রে অননুমোদিতভাবে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বিজেপি নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “এখানে লুকানোর কিছু নেই। আমরা তাদের সমস্যায় ফেলছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁর শাসনামলে মিয়াঁরা সমস্যার মুখে পড়বে—একথা তিনি আগেই বলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “তাদের বুঝতে হবে যে অসমের মানুষ তাদের প্রতিরোধ করছে। তা না হলে তারা সহজেই আধিপত্য বিস্তার করবে। সেই কারণেই কাউকে SIR-এর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, কাউকে উচ্ছেদের নোটিশ, আবার কাউকে বর্ডার পুলিশের (নাগরিকত্ব সংক্রান্ত) নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কিছু এগুলো করব ঠিকই, তবে তা আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকেই… আমরা দরিদ্র ও নিপীড়িতদের পাশে আছি, কিন্তু তাদের পাশে নই যারা আমাদের ‘জাতি’কে ধ্বংস করতে চায়।” প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও দাবি করেছিলেন যে, আগামী আদমশুমারিতে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই হবে ‘মিয়াঁ’ সম্প্রদায়।
