নিজস্ব সংবাদদাতা, রানিনগর: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়াল রানিনগরে। ওই গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরেই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিজান হাসানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রানিনগর বাজার এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন রানিনগর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন প্রাক্তন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিজান হাসান। সেই সময় আচমকা তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লোহার রড দিয়ে মিজান হাসানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন তিনি। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় তিনি মিজান হাসানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি দোকানের শাটার নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম যাতে ওরা মারধর করতে না পারে। কিন্তু হামলাকারীরা আমাকে ফেলে দিয়ে দোকানের ভিতরে ঢুকে আবার মিজানকে মারতে থাকে।”
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মিজান হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে রানিনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মিজান হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। সেই সময় রানিনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুদ্দুস আলী এবং বিধায়ক সৌমিক হোসেনের লোকজন আমার উপর চড়াও হয়। সৌমিক হোসেনের লোকজন লোহার রড ও কাচের বয়াম দিয়ে আমাকে মেরেছে। আমাকে হামলা করে দমানো যাবে না। আমি সুস্থ হয়ে আবার মাঠে নামব।”
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রানিনগরের তৃণমূল বিধায়ক সৌমিক হোসেন। তিনি বলেন, “এই হামলার সঙ্গে আমাদের দল কোনোভাবেই যুক্ত নয়। সকালে চায়ের দোকানে কিছু ঝামেলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কেন হয়েছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমাদের দল এতে জড়িত নয়। নিজেদের মধ্যেই কিছু হয়েছে, পুলিশ সব খতিয়ে দেখুক।”
বিধায়ক আরও দাবি করেন, “ভোট এলেই ওরা এই ধরনের উদ্ভট অভিযোগ তোলে। এর আগেও লোকসভা ভোটের সময় সাংসদ আবু তাহেরকে নিয়ে নানা অভিযোগ করেছিল। ভোটের সময় এই সব হয়, ভোট শেষ হলে আর শোনা যায় না।” এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
