ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ তিন বছর ধরে অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে পথে নামলেন গুজরাটের আদিবাসীরা। বনাসকাঁঠা জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা পালানপুর থেকে গান্ধীনগর পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার পদযাত্রা শুরু করেছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ধারাবাহিক জাতিগত বৈষম্য, ইচ্ছাকৃতভাবে জাতি শংসাপত্র যাচাই বাতিল এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শিক্ষিত আদিবাসী যুবসমাজ চরম বেকারত্বের মুখে পড়েছে।
এই পদযাত্রায় কংগ্রেসের কর্মীরাও শামিল হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় ডান্টা বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক কান্তি খারাদিকেও। তিনি বলেন, “এটা হঠাৎ জন্ম নেওয়া কোনও আন্দোলন নয়। বছরের পর বছর জেলায় জেলায় আবেদন করা হয়েছে। ফাইল ঘুরেছে, বৈঠক হয়েছে, আশ্বাস মিলেছে—কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। জাতি শংসাপত্র যাচাই বাতিল হওয়ায় শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা ঘরে বসে রয়েছেন। স্থানীয় স্তরে সমাধান না হওয়ায় গান্ধীনগর পর্যন্ত হাঁটা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।”
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে জাতি শংসাপত্র যাচাই প্রক্রিয়া। আন্দোলনকারীদের দাবি, সুরক্ষার বদলে এই প্রক্রিয়াই এখন প্রশাসনিক বাধায় পরিণত হয়েছে। আদিবাসী নেতা ঈশ্বরভাই দামোর জানান, “এই সংকটের শুরু তিন থেকে চার বছর আগে। আমরা মামলাতদার, জেলাশাসক, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এমনকি রাজ্যপাল পর্যন্ত লিখিত আবেদন করেছি। আমাদের একটাই দাবি ছিল—জাতি শংসাপত্র যাচাইয়ের জটিলতা দূর করা। আজও কোনও স্থায়ী বা মানবিক সমাধান মেলেনি।”
অভিযোগ, বছরের পর বছর পড়াশোনা করে, কঠোর পরিশ্রমে সরকারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যুবকদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে শুধু জাতি শংসাপত্র ঝুলে থাকা বা বাতিল হওয়ার কারণে। অনেকের কেরিয়ার থমকে গিয়েছে, ভবিষ্যৎও অন্ধকারময়। ছোটখাটো ব্যাকরণগত ভুল, বানান বা প্রযুক্তিগত কারণে শংসাপত্র বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এক আদিবাসীর অভিযোগ, “এটা যাচাই নয়, এটা বাধা সৃষ্টি। মনে হচ্ছে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে আদিবাসী যুবকদের সরকারি পরিষেবায় ঢুকতে দিচ্ছে না।”
আদিবাসী নেতা শঙ্করভাইও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “গত দুই বছর ধরে আমরা সরকারের দরজায় দরজায় ঘুরছি। কোনও সমাধান নেই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা বেকার। সরকার যদি সন্দেহ করে আমরা আদিবাসী কিনা, তবে ডিএনএ পরীক্ষা করুক—কিন্তু আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা বন্ধ করুক।” আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবারও যদি কেবল আশ্বাসই মেলে, তবে ক্ষমতার কেন্দ্রের সামনে রাজপথই হয়ে উঠবে তাঁদের প্রতিবাদের ময়দান।
