TOP NEWS

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’: যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছে নয়াদিল্লি

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় শান্তি রক্ষা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace)-এ যোগ দেওয়ার জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “আমরা মার্কিন পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ পেয়েছি এবং প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক মেকানিজম বা ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর গাজার শাসন ব্যবস্থা তদারকি এবং পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের সমন্বয় সাধন করবে এই বোর্ড। এর মূল লক্ষ্যগুলো হলো- গাজাকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত ও অ-উগ্রপন্থী অঞ্চলে পরিণত করা, আন্তর্জাতিক সম্পদ সংগ্রহ করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং গাজাবাসীদের জন্য স্থায়ী এবং টেকসই শান্তির পথ প্রশস্ত করা।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বরাবরই পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর আগে এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তির লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে এবং ‘টু-স্টেট সলিউশন’ বা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষপাতী।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইতিপূর্বে একটি প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন এবং আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, আমেরিকার নেতৃত্বে গঠিত এই সংস্থা কোনো বিদেশি ভূখণ্ডের শাসন পরিচালনা করলে তা অনেকটা ‘ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোর’ মতো দেখানোর ঝুঁকি থাকে।

ভারত সরকার বর্তমানে প্রস্তাবটির কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের আগেই ভারত তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!