ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: লুটিয়েন্স দিল্লির রাইসিনা হিলসের ওপর অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্য নর্থ ব্লক এবং সাউথ ব্লক চিরতরে খালি করে দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার এই ঐতিহাসিক কার্যালয়গুলি থেকে সরকারি কাজকর্ম গুটিয়ে নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কার্যালয় এখন থেকে পরিচালিত হবে নবনির্মিত অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’ থেকে। পুরানো দপ্তরে নিজের কাজের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সাউথ ব্লকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি শেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রথম বিভাগ হিসেবে নর্থ ব্লক খালি করে কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের নতুন ভবনে সরে গিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘সেবা তীর্থ’ এবং ‘কর্তব্য ভবন ১ ও ২’ উদ্বোধন করবেন। এই পদক্ষেপকে ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেবা তীর্থে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় এবং মন্ত্রিসভা সচিবালয়। কর্তব্য ভবনে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আইন ও বিচার মন্ত্রকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দপ্তর স্থানান্তরিত হবে। এতদিন বিভিন্ন মন্ত্রক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় কাজের গতি ও সমন্বয়ে যে সমস্যা হতো, নতুন কমপ্লেক্স তা দূর করবে।
এই ভবনগুলির বৈশিষ্ট্য হলো:
ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন: উন্নত প্রযুক্তি এবং স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম।
পরিবেশ সুরক্ষা: ৪-স্টার গ্রিহা (GRIHA) মানদণ্ডে নির্মিত এই ভবনগুলিতে সৌরবিদ্যুৎ এবং জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
নাগরিক কেন্দ্রিক: সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা ইন্টারফেস জোন এবং আধুনিক অভ্যর্থনা কেন্দ্র।
নর্থ ও সাউথ ব্লক খালি হওয়ার পর সেগুলিকে একটি বিশাল সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করা হবে। ভারতের ৫০০০ বছরের সভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরতে সেখানে তৈরি হবে বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর ‘যুগে যুগীন ভারত ন্যাশনাল মিউজিয়াম’। ইতিপূর্বে নর্থ ব্লকের মিউজিয়ামের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই নতুন পরিকাঠামো কেবল সরকারি দক্ষতা বাড়াবে না, বরং পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ভারতের প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।
