TOP NEWS

আক্রোশ থেকেই নদিয়ায় প্রতিমা ভাঙচুর, সাম্প্রদায়িক রঙ লাগানোর মরিয়া চেষ্টা বিজেপির, শান্তির বার্তা পুলিশের

(শান্তিপুরের মাথালগড় এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুর। || Image Credit: X/@amitmalviya)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নদিয়া জেলার শান্তিপুরে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বেঁধেছে। একটি কুমোরের কর্মশালার বাইরে রাখা ছিল দেবী কালী ও দেবী সরস্বতীর মূর্তি। সেগুলোকে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের ৫ ও ৬ জানুয়ারি নদীয়ার শান্তিপুরের মাথালগড় এলাকায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় প্রতিমা তৈরি করে আসা কুমোর জয়ন্ত দাসের তৈরি প্রতিমাগুলিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসন্ন পূজা মরসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দাস ও তাঁর পরিবার আগমেশ্বরী তলা এলাকায় কর্মশালার সামনে রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটি প্রতিমা রেখে দিয়েছিলেন। ঘটনার কথা জানিয়ে জয়ন্ত দাস বলেন, “সকালে উঠে দেখি অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি প্রতিমা পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তার বেশিরভাগই কালী ও সরস্বতীর প্রতিমা। এটা দেখে আমার মন ভেঙে গেছে, কারণ এটাই আমার জীবিকা।”

রানাঘাট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় দুই ভাই—অমিত দে ও অসিত দে—যারা মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই গোলমাল করে। তারা দাসের ছেলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানান, “মদ্যপ অবস্থায় অভিযুক্তরা কুমোর পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধায়। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় পর কর্মশালা বন্ধ করে পরিবারটি সেখান থেকে চলে যায়।”

রানাঘাট পুলিশ সূত্রে খবর, পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় অমিত দে প্রতিমাগুলি ভাঙচুর করছে। তার ভাই অসিত দেকেও কিছু সময়ের জন্য ঘটনাস্থলে দেখা যায়। পরদিন সকালে ভাঙা প্রতিমাগুলি নজরে আসার পর শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশ দুই ভাইকেই অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক স্পষ্ট করে বলেন, “এটি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। এর সঙ্গে কোনও সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক যোগ নেই।” তিনি জানান, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অমিত দে-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আমরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছি।

 

তবে ঘটনার পরই রাজনৈতিক রং লাগে বিষয়টিতে। বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ভাঙচুরের ছবি ও বিবরণ শেয়ার করেন। তাঁর পোস্টে তিনি দাবি করেন, লোকনাথ মন্দিরের কাছে কুমোর জয়ন্ত দাসের কর্মশালার বাইরে রাখা প্রায় ৫০–৬০টি প্রতিমা ভাঙা হয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অধীনে এটিকে হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে উল্লেখ করেন।

যদিও ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের বক্তব্য, “সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো থেকে বিরত থাকতে বলছি। এটি একটি ব্যক্তিগত রোষের কারণে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!