নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: কেন্দ্র ও রাজ্যের বৈষম্য বিরোধী ইস্যুতে মুখর হলো সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)। বৃহস্পতিবার ডোমকল বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত “বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ”-এ রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম একাধিক অভিযোগ তুলে বলেন, দেশে নানা ক্ষেত্রেই বৈষম্য তীব্রতর হয়েছে এবং তা রুখতেই জনগণকে সোচ্চার হওয়ার ডাক দিলেন এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি।
এদিন বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকিকুল ইসলাম দাবি করেন, দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, “দেশে একটি রাজনৈতিক দল মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ও বৈষম্যের বীজ বপন করেছে। এই বৈষম্যকে শেষ করতে হলে লড়াই ছাড়া উপায় নেই।” ওড়িশায় নিহত মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুয়েল রানার উদাহরণ টেনে হাকিকুল বলেন, “জুয়েল রানার পরিবার আর্থিক সাহায্য ও চাকরি পেলেও ন্যায়বিচারের আওয়াজ চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।”
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার বৃদ্ধি’— অভিযোগ হাকিকুলের
এসডিপিআই সভাপতি অভিযোগ করেন, বিজেপির শাসনামলে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক মসজিদে বুলডোজার চলছে। ঠুনকো অভিযোগে মুসলিমদের বাড়ি-ঘরে বুলডোজার চালানো হচ্ছে।”
চাকরি ও শিক্ষায় ‘বৈষম্য’-র অভিযোগ
হাকিকুল দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আইএএস-আইপিএস, ডাক্তার বা শিক্ষক নিয়োগে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত কম। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম থাকলেও ১০০ জন ডাক্তার পাশ করলে তার মধ্যে মাত্র ১.৭৫ শতাংশ মুসলিম। ১০০ জন শিক্ষক পাশ করলে মাত্র ২.১ শতাংশ মুসলিম। এতে বোঝা যায় কত বড় বৈষম্য চলছে।” রাজ্যের ওবিসি তালিকা বাতিল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, “ওবিসি তালিকা বহাল না করে পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের অগ্রগতি রুখছে সরকার।”
শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অভিযোগ
হাকিকুল ইসলাম বলেন, “রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ জরুরি হলেও সরকার নীরব। অথচ সরকারি টাকা দিয়ে একের পর এক মন্দির তৈরি হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার শিক্ষা খাতে কাটছাঁট করে বেসরকারিকরণকে উৎসাহ দিচ্ছে।
বিচার ব্যবস্থায়ও ‘বৈষম্য’— দাবি এসডিপিআই সভাপতির
সমাবেশে তিনি দাবি করেন, “ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত রাম রহিম প্যারোলে বের হয়, কিন্তু উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম জামিন পায় না। বিচার ব্যবস্থায়ও বৈষম্য ঢুকে পড়েছে।”
নাগরিকত্ব যাচাই ও ওয়াকফ আইন প্রসঙ্গেও অভিযোগ
নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে হাকিকুল বলেন, “আমার বাবা-দাদারা এই দেশে জন্মেছেন, মারা গেছেন। আজ আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার নেই।” ওয়াকফ বিল প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র মুসলিমদের সম্পত্তি দখল করতে চাইছে এবং প্রতিবাদে এসডিপিআই নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সমাবেশ শেষে হাকিকুল ইসলাম আহ্বান জানান, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিতভাবে দাঁড়াতে হবে, নয়তো “দেশের সাংবিধানিক কাঠামোই বিপন্ন হয়ে পড়বে।”
