বেআইনি আটক এক ঘণ্টার জন্যও বরদাস্ত করব না: পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বলল মাদ্রাজ হাইকোর্ট
(Madras High Court || File Photo)
ডেইলি ডোমকল, চেন্নাই: যদি কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়, তবে সাংবিধানিক আদালত সেই ব্যক্তিকে এক ঘন্টার জন্যও আটকে রাখার অনুমতি দিতে পারে না। কারণ এতে সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, কাউকে আটক করতে গুণ্ডা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে ‘সংযম’ প্রদর্শন করতে হবে। বিচারপতি এস এম সুব্রামণিয়ম ও বিচারপতি পি ধনাবলের বেঞ্চ সাফ বলেছে, যে সাংবিধানিক আদালত কোনও ব্যক্তিকে এক ঘন্টার জন্যও আটকে রাখার অনুমতি দিতে পারে না, যদি তা অবৈধ হয়।
গ্রেটার চেন্নাই পুলিশ কমিশনার ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর গুণ্ডা আইনের অধীনে ভারাকিকে আটক করার নির্দেশ দেন। ভারাকির স্ত্রী নীলিমা তাঁর স্বামীকে আটক করার বিষয়টি বাতিলের দাবিতে একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন (এইচসিপি) পিটিশন দায়ের করেছিলেন। ইউটিউবার ভারাকি-কে তিন মাসের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করার সময় এই পর্যবেক্ষণ করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর ভারাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি যে ভবনে ভাড়া থাকতেন, সেই ভবনের মালিকের স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং সুপ্রিম কোর্টের এ কামালা মামলার রায়ের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে গুণ্ডা আইনের অধীনে ভারাকিকে আটক করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই। সেই কারণেই তাঁকে তিন মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কিছু পুলিশ আধিকারিক গুণ্ডা আইন প্রয়োগ করে ব্যক্তিদের কারাবাস দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ।
মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেয়, যারা ‘বহিরাগত কারণ’ বা যান্ত্রিক ও ভ্রান্ত পদ্ধতিতে নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুণ্ডা আইন প্রয়োগ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে। আদালত স্পষ্টভাবে বলে, “ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সংবিধানে ঘোষিত ও নিশ্চিত একটি মৌলিক অধিকার। কোনো আটক যদি বেআইনি হয় বা আইনবিরোধী কিংবা বহিরাগত কারণে করা হয়, তবে তা এক ঘণ্টার জন্যও চলতে দেওয়া যায় না।”
