TOP NEWS

গণতন্ত্রের পবিত্রতা রক্ষার রক্ষাকবচ: কী এই মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট বা আদর্শ আচরণবিধি?

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন রবিবার চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছে। সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট)। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। অন্যদিকে তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এক দফায় ভোট হবে ৯ এপ্রিল। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোট গণনা হবে ৪ মে।

আদর্শ আচরণবিধি কী?

আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (Model Code of Conduct—MCC) হল নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কিছু নিয়ম ও নির্দেশিকা। এর মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা। নির্বাচনের সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই আচরণবিধি কার্যকর হয় এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকে।

আচরণবিধি জারির পর কী কী নিয়ম মানতে হবে

আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যেমন—

🔹ধর্ম, জাত বা সাম্প্রদায়িক অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে ভোট চাওয়া যাবে না।

🔹রাজনৈতিক সমালোচনা করতে হবে নীতি, কর্মসূচি ও কাজের ভিত্তিতে; ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করা যাবে না।

🔹সরকারি গণমাধ্যমকে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

🔹ভোটারদের ঘুষ দেওয়া, ভয় দেখানো, ছদ্মবেশে ভোট দেওয়া বা ভোটকেন্দ্রের কাছে প্রচার চালানো নিষিদ্ধ।

🔹কারও ব্যক্তিগত বাড়ির সামনে বিক্ষোভ বা অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পত্তি প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

🔹সভা, মিছিল বা মাইকের ব্যবহার করতে হলে আগে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।

🔹আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

🔹মিছিল নির্ধারিত রুট, সময় ও শুরুর-শেষের স্থান মেনে করতে হবে।

🔹ক্ষতিকর বস্তু বহন করা বা কুশপুত্তলিকা দাহ করা নিষিদ্ধ।

🔹বিভিন্ন দলের মিছিল যাতে সংঘর্ষে না জড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

🔹ভোটের দিন বুথের কাছে প্রচার, মদ বিতরণ বা ভিড় করা যাবে না; বুথ ক্যাম্প সাধারণ ও রাজনৈতিক প্রতীকবিহীন হতে হবে।

🔹সরকার নির্বাচনী প্রচারে সরকারি যন্ত্র, অর্থ বা পদমর্যাদা ব্যবহার করতে পারবে না।

🔹ভোটারদের প্রভাবিত করতে নতুন প্রকল্প ঘোষণা, আর্থিক অনুদান বা অস্থায়ী নিয়োগ করা যাবে না।

🔹সরকারি পরিবহন, বিশ্রামাগার, ডাকবাংলো ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা সব দলের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে।

🔹নির্বাচনী ইশতেহার সংবিধানের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং ভোটের ঠিক আগে নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে তা প্রকাশ করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এই আচরণবিধি মেনে চললে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!