ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও বদলির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্ট কোলিজিয়ামের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য সমালোচনা সচরাচর দেখা যায় না। তবে শনিবার সেই ধারার বিপরীতে গিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতি উজ্জল ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে এক হাইকোর্ট বিচারককে বদলি করার কোলিজিয়ামের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিচারপতি ভূঁইয়া পর্যবেক্ষণ করেন যে, বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের (সরকার) কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তিনি একটি বৃহত্তর বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ব্যক্তি স্বাধীনতা বা মানবাধিকার হরণের বিষয়গুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য বিচারকদের কখনোই নতিস্বীকার করা উচিত নয়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাই, তবে বিচারবিভাগের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”
পুনের আইএলএস (ILS) ল কলেজে ‘সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন’ শীর্ষক জি ভি পন্ডিত স্মৃতি বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি ভূঁইয়া বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “যখন কোলিজিয়াম রেকর্ডে উল্লেখ করা হয় যে জনৈক হাইকোর্ট বিচারকের বদলি কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে করা হচ্ছে, তখন এটি বিচারবিভাগের স্বাধীন প্রক্রিয়ার ওপর নির্বাহী প্রভাবের একটি নগ্ন হস্তক্ষেপকেই সামনে নিয়ে আসে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন কোলিজিয়াম বিচারপতি অতুল শ্রীধরনকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট থেকে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে বদলির প্রাথমিক প্রস্তাব সংশোধন করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করেছিল। কোলিজিয়াম জানিয়েছিল, সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ছত্তিশগড়ে গেলে বিচারপতি শ্রীধরন সেখানকার হাইকোর্ট কোলিজিয়ামের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতেন, কিন্তু এলাহাবাদে তাঁর জ্যেষ্ঠতা অনেক নিচে নেমে যায়। একজন স্বাধীনচেতা বিচারক হিসেবে পরিচিতি থাকা এই বিচারকের বদলি নিয়ে তখন তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। ইতিপূর্বে, কর্মরত এক নারী কর্নেলের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার দায়ে মধ্যপ্রদেশের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বিচারপতি শ্রীধরন। নাম উল্লেখ না করলেও বিচারপতি ভূঁইয়া প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু অপ্রিয় আদেশ দেওয়ার কারণে একজন বিচারককে এক হাইকোর্ট থেকে অন্যটিতে সরিয়ে দেওয়া হবে? তিনি প্রশ্ন করেন, “এটি কি বিচারবিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে না?”
