ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসামের মানুষ কাদের ক্ষমতায় দেখতে চান—যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সামনে ‘আত্মসমর্পণ’ করবে, নাকি যারা রাজ্যের নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষা করবে? ডিব্রুগড়ে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এই ভাষাতেই ভোটারদের সামনে এক বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষকে আজ বেছে নিতে হবে তারা কোন আসামকে চান। একদিকে বোমাবাজি, আন্দোলন আর ভীতিমাখা অতীত, অন্যদিকে শান্তি ও প্রগতির বর্তমান। তিনি স্পষ্ট জানান, আসামের উন্নয়ন মানে কেবল পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, এর গভীরে জড়িয়ে আছে রাজ্যের শাশ্বত পরিচিতি।
রাজ্যের জনবিন্যাসগত বা ডেমোগ্রাফিক কাঠামোর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের প্রভাবে রাজ্যের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের আদমশুমারির তুলনায় ২০২৭ সালের সম্ভাব্য আদমশুমারিতে পূর্ববঙ্গীয় মূলের মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে ১২টি জেলাতেই হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসামের প্রায় ৬৩.৮৮ লক্ষ বিঘা জমি বর্তমানে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের হাতে বেদখল হয়ে রয়েছে। পূর্বতন সরকারগুলি এই দখলদারি রুখতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি তোপ দাগেন। তবে ২০২১ সাল থেকে তাঁর সরকারের চালানো উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১.৫ লক্ষ বিঘা (৪৯,৫০০ একর) জমি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
অনুপ্রবেশ দমনে কড়া বার্তার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইমিগ্রেন্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর সংস্থানগুলিকে সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ না হয়েই জেলা প্রশাসন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ বিদেশিদের পুশ-ব্যাক বা বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে।
আগের তুলনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একসময় আসামে প্রজাতন্ত্র দিবস বা স্বাধীনতা দিবস আসত বনধের ডাক আর বন্দুকের গর্জনের মধ্য দিয়ে। আজ সেই ভীতি অতীত। আজ উন্নয়নের জয়যাত্রা আর ঐক্যবদ্ধ আকাশের নিচে এই উৎসব পালিত হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণ রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
