——————————————————————————-

দিল্লির একটি জেলা আদালতের একতরফা আদেশ কার্যকরী না করার অজুহাতে, ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক দেশের অগ্রগণ্য বহু সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে নোটিস জারি করেছে। তাতে মন্ত্রক বলেছে, আগামী তিনদিনের মধ্যে আদানি এন্টারপ্রাইজ ও গৌতম আদানির বিরুদ্ধে করা সমস্ত খবর (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল) প্রত্যাহার করে নিতে হবে। খবরের মোট ১৩৮টি ভিডিও প্রতিবদেন এবং ৮৩টি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট তুলে নিতে বলা হয়েছে। দ্য অয়ার, নিউজ লন্ড্রি, আদানি ওয়াচ, পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা, রবিশ কুমার, রবি নায়ার, আয়ুষ যোশি, অজিত আঞ্জুম, ধ্রুব রাঠি সহ বহু সুপরিচিত সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের উপর এই হুলিয়া জারি করে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
আদানিদের করা একটি মানহানির মামলায় দিল্লির নিম্ন আদালত সাংবাদিকদের কোন নোটিস না দিয়ে, তাঁদের বক্তব্য না শুনে এই নির্দেশ দিয়েছিল। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হুলিয়া জারি করে মেটা এবং গুগলকে আদালতের নির্দেশের কপি পাঠিয়ে সমস্ত খবর মুছে ফেলতে নির্দেশ দেয় মোদি সরকার। প্রবীণ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতার বিরুদ্ধে এটা ছিল আদানিদের সপ্তম মামলা। সাংবাদিকরা নিম্ন আদালতের একতরফা নির্দেশের বিরুদ্ধে এবং তার উপর দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের অতি সক্রিয়তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন।
ভারতবর্ষের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার এই ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। লক্ষনীয় অধিকাংশ আক্রান্ত সাংবাদিকই কোন বড় কর্পোরেট সংবাদ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন না। নিজেরা স্বাধীনভাবে ইউটিউবে বা অনলাইন পোর্টালে খবর করছেন। বড় সংবাদমাধ্যম গুলির অধিকাংশই ইতিমধ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে বা আদানির মত বড় শিল্পপতির বিরুদ্ধে খবর করা বন্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই বড় বড় শিল্পপতিরা কিনে নিয়েছেন। এই অবস্থায় ইউটিউব ও পোর্টালের এই সব সাংবাদিক এবং ছোট ছোট সংবাদমাধ্যমগুলি সত্য ঘটনাকে বা সঠিক বিচার বিশ্লেষণকে সামনে নিয়ে আসে। সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস দেখায়। তাই আজ এই সব সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের পাশে দাঁড়ানো নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আমরা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের উপর নতুন করে এই আক্রমণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সাধারণ জনগণ সংবাদমাধ্যমের উপর ভারত সরকারের এই আক্রমণের তীব্র নিন্দায় সোচ্চার হোন। আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ান। মত প্রকাশের অধিকারকে বাঁচান।
