ডিডি, বেজিং: ফের একবার আত্মশাসিত তাইওয়ানকে চিনের অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, সামরিক প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চিনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত নববর্ষের ভাষণে শি বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে উচ্চমানের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়েই চিন এগোচ্ছে। গত পাঁচ বছরে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে অবদান রাখার জন্য তিনি চিনের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, চিন পাঁচ বছর অন্তর অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় আইনসভা অধিবেশনে নতুন পাঁচ-সালা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের উপর কড়াকড়ি আরোপের প্রেক্ষিতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন শি জিনপিং।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিনের প্রভাব বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত বছরে আয়োজিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠক ও কূটনৈতিক আদান-প্রদানের কথা ভাষণে উল্লেখ করেন শি।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে, যাকে চিন নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে দাবি করে, শি জিনপিং ফের একবার পুনরেকত্রীকরণের বার্তা দেন। তিনি বলেন, “তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাড়ের চিনা জনগণ রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ।” তাঁর কথায়, “মাতৃভূমির পুনরেকত্রীকরণ সময়ের দাবি, এবং তা অপ্রতিরোধ্য।”
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই তাইওয়ানের চারপাশে দু’দিনব্যাপী সামরিক মহড়া চালিয়েছে চিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত অস্ত্র বিক্রির প্রতিক্রিয়ায় রকেট উৎক্ষেপণ, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বৃহস্পতিবার নিজের নববর্ষের ভাষণে চিনের ‘সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং দ্বীপটির আত্মরক্ষা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন।
