ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তর এবং ওই সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভা সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এখন “ইডি-র দয়ার উপর” নির্ভরশীল। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার লাগাম টানতে একমাত্র সুপ্রিম কোর্টই পারে। পশ্চিমবঙ্গে ইডি অভিযানের সময় নাটকীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সিবালের এই মন্তব্য বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার এক্স পোস্টে কপিল সিব্বাল লেখেন, “ইডি-র লাগাম টানতে একমাত্র সুপ্রিম কোর্টই পারে। প্রত্যেক বিরোধী রাজ্য, প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতাকে নিশানা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক—তাও আবার নির্বাচনের ঠিক আগে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এখন ইডি-র দয়ার উপর নির্ভরশীল!”
উল্লেখ্য, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে চলমান ইডি তল্লাশির মধ্যেই সেখানে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ তিনি ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। তার কয়েক মিনিট আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। এদিন সকাল থেকেই আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর ও প্রতীক জৈনের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান চলে। দিল্লি থেকে আসা বিশেষ ইডি দল এই তল্লাশি চালায় বলে সূত্রের খবর। কয়লাপাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়। তবে ইডি জানিয়েছে, এই তল্লাশি অভিযান একটি বহু কোটি টাকার কয়লা পাচার সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলার তদন্তের অংশ। সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বৈধ তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের সহায়তায় “গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ” জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই টানাপোড়েন দ্রুত আইনি ময়দানেও গড়ায়। ইডি কলকাতা হাই কোর্টে গিয়ে তাদের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ জানিয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে আই-প্যাকও হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তল্লাশি অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখ্য, আই-প্যাক তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দলের আইটি ও মিডিয়া সংক্রান্ত কাজও পরিচালনা করে। শাসক দলের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ কাজকর্মের কারণেই নির্বাচনের মুখে এই তল্লাশি অভিযানকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
