ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ফের সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তরে এক ‘অভিনন্দন সমারোহ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চালিয়ে যাবে এনডিএ (NDA) সরকার। কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম না নিলেও, অনুপ্রবেশকারীদের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বিজেপির ৪৫ বছর বয়সী নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর্বান নকশাল” এবং “জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা” বর্তমানে দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের বহু শক্তিশালী দেশ যারা নিজেদের ‘গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী’ মনে করে, তারাও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মেনে নেয় না। তাদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভারতের গরিব মানুষের সম্পদ এবং পরিষেবা কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারীদের লুঠ করতে দেওয়া হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের হীন স্বার্থে এই অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মোদী বলেন, “জনগণের সামনে এদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ‘আর্বান নকশাল’ বা নগর-নকশালদের বিশ্বব্যাপী প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ যদি মোদী বা সরকারের সমর্থনে একটি টুইট করেন বা ইতিবাচক কথা বলেন, তবে এই চক্রটি তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করে কোণঠাসা করে দেয়। মোদী বলেন, “বছরের পর বছর বিজেপিকেও এভাবে একঘরে করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু দেশ এখন এই ষড়যন্ত্র বুঝে গেছে। আর্বান নকশালরা নিরন্তর ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। আমাদের সংগঠন ও আদর্শের শক্তি দিয়ে এই অশুভ আঁতাতকে পরাজিত করতে হবে।”
