ডেইলি ডোমকল, শ্রীনগর: ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) ভারতের সংহতির জন্য অতীতেও বুলেট মোকাবিলা করেছে এবং প্রয়োজনে আবারও তা করতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার জম্মুতে দলীয় এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই বার্তা দিলেন এনসি সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ও পাথর ছোড়ার সংস্কৃতিকে এনসি পুনরুজ্জীবিত করতে চায়—বিজেপির এমন অভিযোগকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
জম্মু-কাশ্মীরকে নতুন করে ভাগ করার বা জম্মুকে আলাদা রাজ্য করার যে দাবি উঠেছে, তাকে ‘মূর্খতা ও অজ্ঞতা’ বলে অভিহিত করেছেন প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি ২০১৯ সালে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়া লাদাখও একদিন মূল রাজ্যের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। পীর পাঞ্জাল এবং চেনাব উপত্যকার জন্য পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ বা নতুন জেলা গঠনের দাবিরও তীব্র বিরোধিতা করেন আবদুল্লা। তিনি একে ১৯৫০ সালের বিতর্কিত ‘ডিকসন প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। উল্লেখ্য, তৎকালীন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি স্যার ওয়েন ডিকসন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ মেটাতে চেনাব নদী বরাবর জম্মু-কাশ্মীরকে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফারুক আবদুল্লা বলেন, “অনেকেই এই রাজ্যকে ভাঙতে চায়, কিন্তু তারা সফল হবে না। হিমাচল প্রদেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস পারমারও এই বিভাজনের বিরোধিতা করেছিলেন। বর্তমানে যে জেলাগুলো রয়েছে, সেগুলিই যথেষ্ট; শুধু প্রয়োজন সঠিক প্রশাসনের।”
বিজেপি নেতার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হেসে ফারুক বলেন, “তাঁকে গিয়ে বলুন, অশান্তি আমরা নয়, ওরাই তৈরি করতে চায়। আমরা ভারতের সঙ্গে থাকার জন্য গুলি খেয়েছি এবং আবারও তা করতে রাজি আছি।”
অন্যদিকে, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির নতুন জেলা গঠনের দাবি এবং বেকারত্ব নিয়ে সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যকে সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের এবং নিজের বাবার (মুফতি মহম্মদ সায়ীদ) আমলের রেকর্ড আগে দেখা উচিত।” লাদাখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কখনও লাদাখকে আলাদা করতে চাইনি। আলাদা হয়ে লাদাখ কী সুবিধা পেল? আজ ওখানকার মানুষও বলছে তারা আর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে থাকতে চায় না, রাজ্যের সঙ্গেই ফিরতে চায়। ইনশাআল্লাহ, একদিন লাদাখ আবারও ফিরে আসবে।”
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি। গাজা শান্তি প্রক্রিয়ায় মোদীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই নেতার বন্ধুত্ব আরও মজবুত হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়ার মধ্যে ‘পাকিস্তান ফোবিয়া’ কাজ করছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বন্ধু বদলানো যায় কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।” পাকিস্তান নিয়ে নেতিবাচক তকমা দেওয়ার বিষয়েও তিনি সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন।
