ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি নীতি, বিশেষ করে ইউজিসি-র (UGC) নতুন বিধিনিষেধের প্রতিবাদে সোমবার পদত্যাগ করলেন বেরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্কার অগ্নিহোত্রী। ২০১৯ ব্যাচের এই পিসিএস (PCS) অফিসার ইউজিসি-র নতুন নিয়মকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করে দাবি করেছেন, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করবে এবং জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেবে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য রুখতে ‘প্রমোশন অফ ইক্যুইটি রেগুলেশন, ২০২৬’ নামক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। অলঙ্কার অগ্নিহোত্রীর দাবি, এই নিয়মগুলি বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে বিশেষ করে ব্রাহ্মণ সমাজ নিগৃহীত হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকার যখন সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিভক্ত করার নীতি গ্রহণ করে, তখন তাদের জাগিয়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়ে।”
পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অগ্নিহোত্রী অভিযোগ করেন, জেলাশাসক (DM) অবিনাশ সিংয়ের বাসভবনে তাঁকে ৪৫ মিনিট জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “লখনউ থেকে জেলাশাসকের কাছে ফোন আসার পর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং সারা রাত আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসএসপি-র হস্তক্ষেপে আমি মুক্তি পাই।” তাঁকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সরকারি আবাসন খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে জেলাশাসক অবিনাশ সিং এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, আলোচনার সময় সেখানে অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং কোনও দুর্ব্যবহার করা হয়নি।
এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেরেলির মেয়র ডাঃ উমেশ গৌতম অগ্নিহোত্রীর বাসভবনে যান। তিনি স্বীকার করেন যে ইউজিসি-র নিয়মে কিছু খামতি থাকতে পারে। অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে বলেন, “শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দের ওপর লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর এই চাপ প্রমাণ করে যে বিজেপি শাসনে সংবিধান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিপন্ন।” সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা প্রবীণ সিং অ্যারন বলেন, “এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের বিষয় নয়, বরং একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের মর্যাদা ও সংবিধান রক্ষার প্রশ্ন।”
কানপুরের বাসিন্দা অলঙ্কার অগ্নিহোত্রী এর আগে উন্নাও ও লখনউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মহকুমা শাসক হিসেবে কাজ করেছেন। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী অগ্নিহোত্রী আমেরিকাতেও কর্মরত ছিলেন। প্রশাসনিক মহলে তিনি একজন স্পষ্টভাষী ও কড়া মেজাজের অফিসার হিসেবে পরিচিত। এই পদত্যাগের ঘটনা এবং ইউজিসি-র নতুন আইন নিয়ে আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
