ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: “পেশাগত দক্ষতা একজন ব্যক্তির চরিত্র বা জনসেবায় তাঁর ভূমিকাকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না; সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সনাতন ধর্মকে হৃদয়ে রাখা উচিত,”—গত শনিবার চেন্নাইয়ে ধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথন।
বিচারপতি স্বামীনাথন তাঁর বক্তব্যে জানান, এই অনুষ্ঠানটি তাঁকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধে অটল থেকে ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধনের প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার চাকরির মেয়াদ আর প্রায় সাড়ে চার বছর বাকি। এই সময়টুকু আমি উচ্চমানের কাজের মাধ্যমে এবং সনাতন ধর্মকে হৃদয়ে ধারণ করে অর্থবহ করে তুলতে চাই।” তাঁর মতে, সরকারি পদের উৎকর্ষ অবশ্যই দৃঢ় নৈতিক নীতি এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার দ্বারা সমর্থিত হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার এন. গোপালস্বামী এবং বিচারপতি স্বামীনাথন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এন. গোপালস্বামীর বক্তব্যের সূত্র ধরে বিচারপতি বলেন যে, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান বা কারিগরি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য তা যথেষ্ট নয়।
বিনম্রতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বিচারপতি প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ইলাইয়ারাজার নাতির উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিখ্যাত পরিবারের উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও ওই যুবক যেভাবে অহংকারমুক্ত থেকে অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তা প্রকৃত মূল্যবোধের প্রতিফলন এবং সমাজের জন্য একটি উদাহরণ।
প্রসঙ্গত, এর আগে বিচারপতি স্বামীনাথন তিরুপ্পরঙ্কুন্দ্রম পাহাড়ের চূড়ায় বার্ষিক কার্তিক উৎসবের সময় প্রথাগত কার্তিক দীপম জ্বালাতে মন্দির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু সরকার ও মন্দির প্রশাসন আপিল করলেও মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে পূর্বের রায় বহাল রাখে।
উল্লেখ্য, তিরুপ্পরঙ্কুন্দ্রম পাহাড়ে প্রদীপ প্রজ্বলন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ছিল। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এটি একটি প্রাচীন ধর্মীয় রীতি এবং এর ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার দাবি করেছিল যে পাহাড়ের চূড়ায় কোনো প্রদীপ স্তম্ভ থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। তবে আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এই রীতি পালনের পথ প্রশস্ত হয়।
