TOP NEWS

“আমেরিকা বিশ্বাসঘাতক, ওদের কথায় ভরসা নেই!” আঙ্কারায় দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটনকে তুলোধনা আরাঘচির

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরান ও আমেরিকার আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি তুরস্ক সফরে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই তিক্ততা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন। তাঁর দাবি, ইরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী হলেও আমেরিকার অতীত রেকর্ড এবং বর্তমান নীতি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরাঘচি তাঁর বক্তব্যে আমেরিকার প্রতি চরম অনাস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বারবার প্রমাণ করেছে যে আমেরিকা কখনওই তার কথায় অনুগত থাকেনি এবং তারা কোনোদিন সৎ বিশ্বাস বা ‘গুড ফেইথ’ নিয়ে কাজ করেনি।” বিশেষ করে পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকার সরে আসা এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রসঙ্গটি তাঁর এই মন্তব্যের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে ইরানি বিদেশমন্ত্রী জানান, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেও আমেরিকা বারবার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আরজি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমাদের কাছে আলোচনার অনুরোধ পাঠিয়েছে এবং তারা প্রতিনিয়ত এই অনুরোধ পুনর্নবীকরণ করে চলেছে।” তবে এই মধ্যস্থতাকারী কারা বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরান কি তবে আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসছে? আরাঘচি পরিষ্কার করেছেন যে, ইরান কূটনৈতিক পথ বন্ধ করেনি। তবে আলোচনার জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “আলোচনা শুরু করার জন্য আগে সমস্ত ধরনের হুমকি বন্ধ করতে হবে। ইরান যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।”

তুরস্ক সফরকালে আরাঘচি কেবল আমেরিকার প্রসঙ্গই তোলেননি, বরং সিরিয়া ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তেহরান ও আঙ্কারার যৌথ উদ্যোগ যে অত্যন্ত জরুরি, সেই বার্তাও তিনি দেন। আব্বাস আরাঘচির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। একদিকে আমেরিকার অনুরোধ, অন্যদিকে হুমকির মুখে মাথা নত না করার ইরানি জেদ— সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!