TOP NEWS

আরটিআই আইনে কোপ? অর্থনৈতিক সমীক্ষার সুপারিশ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা: সরব মল্লিকার্জুন খাড়গে

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের (MGNREGA) পর এবার কি কোপ পড়তে চলেছে তথ্যের অধিকার বা আরটিআই (RTI) আইনের ওপর? সংসদের বাজেট অধিবেশনে পেশ করা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আরটিআই আইন পর্যালোচনার সুপারিশ আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তথ্যের অধিকারকে ‘হত্যা’ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা রিপোর্টে প্রায় দুই দশকের পুরনো ২০০৫ সালের আরটিআই আইনটি পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি হলো, আমলাদের খসড়া মন্তব্য বা গোপন রিপোর্ট জনসমক্ষে চলে আসার ফলে প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আরটিআই আইনকে ‘বাইরে থেকে সরকারকে মাইক্রো-ম্যানেজ’ করার হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করা হয়নি। আমলাদের বদলি, গোপন সার্ভিস রেকর্ড এবং খসড়া নোটগুলোকে জনসমক্ষে আনা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ‘মিনিস্টেরিয়াল ভেটো’ (মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ ক্ষমতা) প্রয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত। সরকারের দাবি, এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য আইনের মূল নির্যাস নষ্ট করা নয়, বরং একে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং শাসনব্যবস্থাকে আরও সাবলীল করা।

এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, “১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে শেষ করার পর, এবার কি আরটিআই-এর পালা?” খাড়গে অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত আরটিআই-এর আওতায় জমা পড়া ২৬,০০০-এর বেশি আবেদন ঝুলে রয়েছে। ২০১৯ সালে সরকার আরটিআই আইনের সংশোধন করে তথ্য কমিশনারদের বেতন ও কার্যকালের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যার ফলে এই স্বাধীন সংস্থাগুলো এখন সরকারের অনুগত হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন আরটিআই-এর জনস্বার্থ সংক্রান্ত ধারাগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে। গোপনীয়তাকে ঢাল করে এখন দুর্নীতি আড়াল করা হচ্ছে।

কংগ্রেস সভাপতির দাবি, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন একজন প্রধান তথ্য কমিশনার ছাড়াই চলেছে। গত ১১ বছরে সাতবার এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি ইচ্ছাকৃতভাবে খালি রাখা হয়েছে বলে খাড়গে অভিযোগ করেন। খাড়গে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০০-র বেশি আরটিআই আন্দোলনকারীকে খুন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার সত্য অনুসন্ধানকারীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। এমনকি ইউপিএ আমলের ‘হুইসেল ব্লোয়ার প্রটেকশন অ্যাক্ট, ২০১৪’ বিজেপি সরকার আজও কার্যকর করেনি বলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন।

আরটিআই আইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু অর্থনৈতিক সমীক্ষার এই ‘পুনর্বিবেচনা’-র ডাক কি স্বচ্ছতা কমিয়ে আমলাতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে? খাড়গের এই প্রশ্ন এখন ভারতের রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের অবাধ অধিকার আর সরকারি গোপনীয়তার এই লড়াই আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই নজর দেশবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!