ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে ব্যাপক রদবদল করল নবান্ন। আইপিএস রাজীব কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি (DGP) হলেন পীযূষ পান্ডে। রাজীব কুমার ৩১ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করছেন, আর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বর্তমান ‘ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি’ পীযূষ পান্ডে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনিই এই দায়িত্ব সামলাবেন। একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলার কমিশনারেটেও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের বর্তমান কমিশনার মনোজ কুমার ভর্মাকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে পীযূষ পান্ডের ছেড়ে আসা ‘ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি’ পদে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার ভার থাকবে তাঁর কাঁধে। অন্যদিকে, কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন সুপ্রতিম সরকার। এতদিন তিনি এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনা হয়েছে বিনিত কুমার গোয়েলকে। এসটিএফ (STF) থেকে সরিয়ে তাঁকে এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) করা হয়েছে, পাশাপাশি তিনি দুর্নীতি দমন শাখারও অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন। অন্যদিকে, জাভেদ শামিমকে এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বদলি:
অনুজ শর্মা: ডিরেক্টর জেনারেল, দমকল পরিষেবা।
সিদ্ধিনাথ গুপ্ত: ডিজি, কারা বিভাগ।
বিশাল গর্গ: এডিজি, সাইবার সেল।
অজয় মুকুন্দ রানাডে: এডিজি, টেলিকমিউনিকেশন।
হাওড়া, ব্যারাকপুর ও বিধাননগর কমিশনারেটেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। হাওড়ার নগরপাল প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠিকে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলী ধরকে বদলি করা হয়েছে বিধাননগরে। বিধাননগরের সিবি মুকেশকে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়েছে। হাওড়ার নতুন পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন আকাশ মাঘারিয়া। চন্দননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন কোটেশ্বর রাও।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল:
পীযূষ পান্ডে, ভারপ্রাপ্ত ডিজি ও আইজিপি (পশ্চিমবঙ্গ)।
সুপ্রতিম সরকার, পুলিশ কমিশনার, কলকাতা।
মনোজ কুমার ভর্মা, ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি, পশ্চিমবঙ্গ।
বিনিত কুমার গোয়েল, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) ও এডিজি (দুর্নীতি দমন)।
জাভেদ শামিম, এডিজি (এসটিএফ) ও এডিজি (আইবি)।
প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজীব কুমারের অবসরের পর পুলিশি ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে এবং সামনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সুপরিকল্পিত রদবদল করা হয়েছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ অফিসারদের যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই তরুণ অফিসারদেরও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামনের সারিতে।
