নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: জেলা আদালত চত্বরে তিল ধারণের জায়গা নেই। সকাল হতেই ভিড় জমাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। লক্ষ্য একটাই— ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এফিডেফিট করানো। মূলত এসআইআর (SIR) হেয়ারিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই এফিডেফিট করার হিড়িক পড়েছে।
সূত্রের খবর, প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার এফিডেফিট করা হচ্ছে জেলা আদালতে। বিশেষ করে ডোমকল এবং বহরমপুর মহকুমা এলাকা থেকে আসা মানুষের সংখ্যাই সবথেকে বেশি। কাজ ফেলে রেখে সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিতে হচ্ছে তাদের। কাজ শেষ করতে কালঘাম ছুটছে সাধারণ মানুষের। তাদের দাবি, একটি মাত্র এফিডেফিট করতে কোথাও কোথাও ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক খরচের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
অভিযোগ, এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির আইনজীবীরা আকাশছোঁয়া টাকা নিচ্ছেন। জলঙ্গি থেকে এফিডেফিট করতে আসা আসরাফ সেখ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার মাত্র দুটো এফিডেফিট করতে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। যার কাছে যেমন পারছে, সেভাবেই টাকা নেওয়া হচ্ছে।” জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র মানুষেরা নিরুপায় হয়েই এই টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসআইআর হেয়ারিংয়ের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে অনেকেই ধারদেনা করে এই বাড়তি টাকা জোগাড় করছেন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় সাধারণ মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও বার অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
