কিবরিয়া আনসারী
ডোমকল: সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র ডোমকল। গত পাঁচ মাস ধরে এই বিধানসভা কেন্দ্রটি আক্ষরিক অর্থেই ‘অভিভাবকহীন’। তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের অকাল প্রয়াণের পর থেকেই ডোমকলের রাজনৈতিক অলিন্দে বইছে নতুন হাওয়া। কে হবেন পরবর্তী কান্ডারি? জাফিকুল ইসলামের পরিবারই কি পাবে দলের অগ্রাধিকার, নাকি ডোমকলে তৃণমূলের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে পরিচিত সৌমিক হোসেনের হাতেই ফিরবে এই জনপদের রাশ? এই প্রশ্নই এখন ডোমকলের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।
এক সময়কার ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ডোমকল এখন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের অকাল প্রয়াণের পর এই কেন্দ্রের উত্তরসূরি কে? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ডোমকলের রাজনৈতিক অলিন্দে প্রশ্নটি জোরালো হচ্ছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকল বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিট শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যাবে? কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট বা কালীঘাটে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মুর্শিদাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি নিয়ে শাসক দলের রাজ্য নেতৃত্বের অন্দরে ঠিক কি সমীকরণগুলি কাজ করছে?
বিধায়ক-শূন্য ৫ মাস: স্থবিরতা বনাম প্রত্যাশা
জাফিকুল ইসলামের প্রয়াণের পর প্রায় ১৫৬ দিন অতিক্রান্ত। একটি বিধানসভা কেন্দ্রে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার অর্থ হলো উন্নয়নমূলক কাজে কিছুটা স্থবিরতা এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সমস্যা। বিশেষ করে বিধায়ক সংশাপত্র (MLA Certificate) পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সংশাপত্র সমস্যা মেটাতে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন রানিনগরের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা সৌমিক হোসেন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন, ডোমকলের মানুষের প্রয়োজনে তিনি নিজেই বিধায়ক সংশাপত্র দেবেন। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। অনেকের মতেই, এই মন্তব্য ডোমকলের মাটিতে সৌমিকের ‘রাজকীয় প্রত্যাবর্তন’-এর আগাম বার্তা।
সৌমিক হোসেন: ডোমকলের রাজনীতির ‘মাস্টারমশাই’
ডোমকলের রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এখানে ঘাসফুল শিবিরের ভিত শক্ত করার প্রধান কারিগর ছিলেন সৌমিক হোসেন। তাঁর নেতৃত্বেই ডোমকলে তৃণমূলের ‘ভরা যৌবন’ এসেছিল। পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ, এমনকি ডোমকল পুরসভাতেও জয়ের ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন তিনি। ডোমকলের প্রথম পুরপ্রধান হিসেবে তাঁর কাজ আজও চর্চিত। তবে রাজনীতির পথ মসৃণ হয় না। দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে একসময় তাঁকে পুরপ্রধানের পদ থেকে অপসারিত হতে হয়েছিল। অভিমানে বা কৌশলগত কারণে তিনি ডোমকল ছাড়েন এবং পরবর্তী নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী রানিনগর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু ডোমকলের বহু নেতার কাছে আজও তিনি ‘রাজনৈতিক গুরু’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডোমকলের এক নেতা বলেন, “শূন্য থেকে আমাদের তুলে এনে নেতা বানিয়েছিলেন সৌমিক হোসেন। তাঁর হাত ধরেই আমাদের হাতেখড়ি। তিনি আমাদের অভিভাবক ছিলেন এবং আছেন।”
টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে ব্লক তৃণমূলের অন্দরে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। চলছে নানান জল্পনাও। বর্তমানে মূল লড়াইটি দাঁড়িয়েছে ‘সহানুভূতি বনাম অভিজ্ঞতার’ ওপর বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে দেখা গিয়েছে, কোনো সিটিং বিধায়ক (MLA) প্রয়াত হলে সাধারণত তাঁর পরিবারের কাউকেই টিকিট দেওয়া হয়। সেই সূত্রে জাফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, দল যদি সহানুভূতির তাস খেলে, তবে জাফিকুলের পরিবারই হবে তৃণমূলের প্রথম পছন্দ।
অন্যদিকে, জাফিকুল ইসলামের সময়কালে সৌমিক-ঘনিষ্ঠ অনেক নেতা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন জাফিকুল ইসলামের প্রয়াণের পর সৌমিক হোসেনকে রানিনগর, ডোমকল ও জলঙ্গি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। এই নয়া দায়িত্ব তাঁকে ডোমকলের রাজনীতিতে পুনরায় ‘মধ্যমণি’ করে তুলেছে। গত কয়েক বছরে ডোমকলে সৌমিক অনুগামীদের কৌশলে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। এখন জাফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে সেই নেতারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছেন। সৌমিক হোসেনের কো-অর্ডিনেটর হওয়া তাঁদের পালে বাড়তি হাওয়া দিয়েছে। ডোমকলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চে এখন সৌমিকের সরব উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি তাঁর পুরনো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।
টিকিট প্রত্যাশীদের লম্বা তালিকা
শুধুমাত্র সৌমিক বা জাফিকুল পরিবার নয়, ডোমকলের টিকিটের দৌড়ে সামিল হয়েছেন একাধিক নেতা ও সমাজসেবী। গুটি সাজাতে শুরু করেছেন প্রত্যেকেই। আলোচনায় রয়েছেন:—
* বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল আলিম (বাপি) বিশ্বাস।
* তৃণমূলের ডোমকল ব্লক সভাপতি হাজিকুল ইসলাম।
* তৃণমূলের ডোমকল টাউন সভাপতি কামরুজ্জামান মন্ডল।
* তৃণমূলের যুব নেতা সামিউল সেখ (রুবাই)।
* তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য তজিমুদ্দিন খান।
এঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্তরে জনসংযোগ শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লড়াইটা মূলত হবে জাফিকুল পরিবার বনাম সৌমিক হোসেনের মধ্যে। যদি জাফিকুলের পরিবার লড়তে অনিচ্ছুক হয়, তবেই অন্য নেতাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ডোমকলে শাসক দলের প্রার্থীর বিষয় নিয়ে তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও বিধায়ক অপূর্ব সরকার (ডেভিড) ‘ডেইলি ডোমকল’-কে বলেছেন, “টিকিট দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজ্য নেতৃত্বের বিষয়। এবিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। কে কোথায় প্রার্থী হবেন তা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন। তবে ডোমকলে তৃণমূলের সংগঠন ঐক্যবদ্ধ।”

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান তিনটি সমীকরণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডোমকলে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান সূত্র কাজ করতে পারে:—
১. সহানুভূতি ও পারিবারিক উত্তরাধিকার
তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক প্রবণতা বলছে, কোনো সিটিং এমএলএ বা সাংসদ প্রয়াত হলে তাঁর পরিবারের কাউকেই টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। সেই দিক থেকে জাফিকুল ইসলামের পরিবারই দৌড়ে সবার আগে রয়েছে। প্রয়াত বিধায়কের স্ত্রী আরজুমান আকতার (বিনা) প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি রয়েছে। দল যদি মহিলা প্রার্থী বা পরিবারের উত্তরাধিকারকে গুরুত্ব দেয়, তবে তিনিই প্রথম পছন্দ হতে পারেন। পাশাপাশি জাফিকুল ইসলামের ভাই তথা পেশায় চিকিৎসক জাকির হোসেনের নামও উঠে আসছে। শিক্ষিত মুখ হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে ধারণা।
২. অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া নেতা
ডোমকলের রাজনীতির সমীকরণে সবথেকে বড় নাম সৌমিক হোসেন। তিনি বর্তমানে রানিনগরের বিধায়ক হলেও, ডোমকলে তৃণমূলের সংগঠনের প্রধান কারিগর তিনিই ছিলেন। কেন তিনি প্রাসঙ্গিক? জাফিকুল ইসলামের প্রয়াণের পর দল তাঁকে ডোমকলের কো-অর্ডিনেটর করেছে। ডোমকলের ব্লক ও টাউন স্তরের বহু নেতা এখনও তাঁর অনুগামী। তিনি বর্তমানে রানিনগরের বিধায়ক। দল কি তাঁকে নিজের আসন ছেড়ে ডোমকলে ফেরাবে? নাকি তিনি নেপথ্যে থেকে অন্য কাউকে সমর্থন করবেন, সেটাই দেখার। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এক সময়কার ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ডোমকলে এখনও কংগ্রেস ও বামেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং ভালো ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ডোমকলের মত জায়গায় শাসকদলকে জিততে হলে অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া এবং পাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিকল্প নেই।
৩. নতুন মুখ ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব
একটি সূত্র বলছে, প্রয়াত বিধায়কের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে ডোমকলে শাসকদলের কোন্দল প্রখর হবে। তৃণমূলের একাংশ ইতিমধ্যে কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ জানিয়েছে, প্রয়াত বিধায়কের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে তারা কেউ ভোট করবেন না। সবমিলিয়ে কোন্দল কাটিয়ে পুণরায় ডোমকলে ঘাসফুল ফোটাতে নতুন মুখের দিকেও ঝুঁকতে পারে দল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রেও বেশ খানিকটা বেগ পেতে হতে পারে জোড়াফুল শিবিরকে। কারণ, রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ এবং নতুন মুখকে দলের কর্মী ও নেতৃত্বরা কতটা মান্যতা দেবে সেটাও বড় প্রশ্নের।
যদি দল প্রয়াত বিধায়কের পরিবারের বাইরে গিয়ে কোনো নতুন ও সাংগঠনিক নেতাকে গুরুত্ব দেয়, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহলে বেশকয়েকটি নাম উঠে আসছে এবং চর্চায় রয়েছে—
I) আব্দুল আলিম (বাপি) বিশ্বাস। তিনি এলাকায় বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
II) হাজিকুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান মন্ডল, ব্লক ও টাউন সভাপতি হিসেবে সংগঠনের নাড়ি-নক্ষত্র চেনেন তাঁরা।
III) তজিমুদ্দিন খান জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁর একটি নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে।
IV) সামিউল সেখ (রুবাই) যুব নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে তরুণ প্রজন্মের ভোট টানতে তিনি কার্যকর হতে পারেন।
প্রার্থী বাছাইয়ে মাপকাঠি
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব (বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিম) প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে কয়েকটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি ব্যবহার করছে:—
🔹 জনপ্রিয়তা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি: ডোমকলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে এমন কাউকে প্রয়োজন যার গ্রহণযোগ্যতা সর্বস্তরে রয়েছে।
🔹 সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক: ডোমকলের জনবিন্যাসের নিরিখে সংখ্যালঘু ভোট সংহত রাখাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
🔹 গোষ্ঠী কোন্দল প্রশমন: এমন কাউকে টিকিট দেওয়া হবে যাকে মেনে নিতে আপত্তি করবেন না জাফিকুল ও সৌমিক—উভয় গোষ্ঠীর অনুগামীরাই।
শেষ কথা: সিদ্ধান্ত এখন কালীঘাটের হাতে
ডোমকলের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, লড়াইটা মূলত ‘সহানুভূতি’ (জাফিকুল পরিবার) বনাম ‘সংগঠন’ (সৌমিক হোসেন)-এর মধ্যে। ২০২৬-এর নির্বাচনে এই দুই শক্তির যে সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তার হাতেই উঠবে ডোমকলের টিকিট! তবে টিকিট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূলের কোর-কমিটি এবং স্বয়ং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এমনটাই জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান। এই প্রসঙ্গে ‘ডেইলি ডোমকল’-কে তিনি বলেন, “কাকে টিকিট দিলে দলের জয় নিশ্চিত হবে এবং দলের পক্ষে ভালো হবে, তা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিবেচনা করছে। দলের কৌশল কী হবে, সেটাও নেতৃত্ব ঠিক করছে। তাছাড়া টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে আই-প্যাক কাজ করছে। তারা জনমত সমীক্ষা চালাচ্ছে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই দলের ভালো-মন্দ বিচার করা হবে।”
তবে নতুন মুখ নাকি পুরনো কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাননি সাংসদ। তাঁর কথায়, “সবটাই দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। এর বেশি কিছু বলব না।” পাশাপাশি আবু তাহের খানের দাবি, যেই প্রার্থীই হোন না কেন, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, “প্রার্থী যেই হোক, জয় তৃণমূলেরই হবে। সর্বোপরি জয়ী হবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও উঠে এসেছে। আবু তাহের খান জানান, “অতীতে দেখা গিয়েছে, কোনও রানিং বিধায়ক বা সাংসদ প্রয়াত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের টিকিট দিয়েছেন দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। দিদি মানবিক দিক থেকে প্রয়াত নেতার পরিবারকে অগ্রাধিকার দেন। এটা দিদির ভাবনা।” ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও সেই রকম কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আবু তাহের খান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত সব সিদ্ধান্তই নেবে দল এবং শীর্ষ নেতৃত্ব।
সবমিলিয়ে ডোমকলের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর মতো। একদিকে আছে প্রয়াত নেতার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা, অন্যদিকে আছে সৌমিক হোসেনের দক্ষ সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং ডোমকলের নাড়ি নক্ষত্র চেনার অভিজ্ঞতা। ডোমকল কি তার পুরনো গুরুকে ফিরে পাবে, নাকি নতুন কোনো মুখ এই সীমান্ত শহরের অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হবে? উত্তরের জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতেই হবে। ডোমকলের মসনদের চাবিকাঠি এখন রাজ্য নেতৃত্বের পকেটে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ও সম্ভাবনার আলোচনা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ। এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রার্থিতা নিশ্চিত বলে দাবি করা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই প্রার্থী নির্ধারণে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।)
