ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে বিশেষ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বাল। তাঁর মতে, এটি বিচারবিভাগকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কালিমালিপ্ত করার এক ‘নির্বাচনমূলক লক্ষ্য’। ‘দ্য হিন্দু’ গোষ্ঠী আয়োজিত ‘জাস্টিস আনপ্লাগড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন সিব্বাল।
এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির একটি পাঠ্যবইয়ে বিচারবিভাগের দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কপিল সিব্বাল বলেন, “সমাজে দুর্নীতির বিষয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করা জরুরি, কিন্তু কেবল বিচারব্যবস্থাকেই কেন বেছে নেওয়া হলো? প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কিছু খারাপ মানুষ থাকে, বিচারব্যবস্থাতেও দুর্নীতি নেই— তা আমি বলছি না। কিন্তু ১৩-১৪ বছরের কিশোর মনের ওপর এমন প্রভাব ফেলা হচ্ছে, যাতে তারা বড় হয়ে আদালতকে অসাধু মনে করতে শুরু করে।” সিব্বাল মনে করেন, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিচারপতিরাও আংশিকভাবে দায়ী। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বিচারপতিরা যদি সাংবিধানিক নৈতিকতা মেনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতেন, তবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। যখন সাধারণ মানুষের বিশ্বাস জন্মে যায় যে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতিগ্রস্ত, তখনই এমন ন্যারেটিভ তৈরি হয়। এক অর্থে বিচারপতিরা নিজেরাই এই পরিণতি ডেকে এনেছেন।”
কেন্দ্রের সমালোচনা করে সিবাল প্রশ্ন তোলেন, যদি দুর্নীতি নিয়ে পড়ুয়াদের শেখাতেই হয়, তবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে? তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং আমলাতন্ত্র অনেক বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। কীভাবে সংসদে বিল পাস করানো হয় বা অ-আর্থিক বিলগুলোকে ‘মানি বিল’ হিসেবে পেশ করা হয়— সেই ‘সাংবিধানিক অনৈতিকতা’র কথা কেন পাঠ্যবইয়ে নেই? শুধুমাত্র বিচারবিভাগকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো এই প্রতিষ্ঠানকে ভীত ও দুর্বল করে দেওয়া, যাতে সরকার এটি সম্পূর্ণ কবজা করতে পারে।
সিব্বালের দাবি, এনসিইআরটি নিজে থেকে এই কাজ করেনি। সরকারের নির্দেশেই এটি করা হয়েছে যাতে বিচারপতিদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা যায়। তিনি বলেন, “সরকার বিচারপতিদের বোঝাতে চাইছে যে দেখ, শিশুরাও তোমাদের সম্পর্কে কী ভাবছে।” প্রবীণ আইনজীবীর সাফ বক্তব্য, “দুর্নীতি নিয়ে সামগ্রিক শিক্ষা দেওয়ার বদলে শুধুমাত্র বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চক্রান্ত।” তবে এই বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
