মহিলা আন্দোলনকারীকে চড় ও মারধর, দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডিসিপির ‘গাজোয়ারি’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের সময় এক মহিলা বিক্ষোভকারীকে কোণঠাসা করে চড় মারা এবং শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন উত্তর-পূর্ব দিল্লি জেলার অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সন্দীপ লাম্বা। ‘সংসদ অভিযান’ অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সময় এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। মহিলা আন্দোলনকারীকে নিগ্রহের প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এক সংবাদ সংস্থাকে সন্দীপ লাম্বা বলেন, বিক্ষোভকারীদের সাথে হাতাহাতির সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁর পুলিশ ইউনিফর্ম ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওটি ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ তুলেছেন, এই সন্দীপ লাম্বাই সেই পুলিশ কর্মকর্তা যিনি আগে ট্রাকের ওপর উঠে গীতাঞ্জলি ওয়াংচুককে আঘাত করেছিলেন এবং তাঁর চুল ধরে টেনেছিলেন। এক্স-এ দীপকে লেখেন, “সন্দীপ লাম্বা পুলিশ বাহিনীতে কাজ করার মতো মানসিক ভারসাম্য রাখেন না”।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, “না! উনি কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন না! এই ধরনের বর্বরদের নাম প্রকাশ্যে এনে লজ্জিত করা, সামাজিকভাবে বয়কট করা এবং আদালতে তোলা নিশ্চিত করা উচিত। যার মধ্যে প্রথম নাম সন্দীপ লাম্বা।” তিনি আরও যোগ করেন, “চিহ্নিত করুন উনি কোথায় থাকেন, ওঁর সার্ভিস রেকর্ড কী। আইনজ্ঞ দল কি দয়া করে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কাজ শুরু করবে?”
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. ভেনুগোপালও সেই ভিডিও শেয়ার করে দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “পোশাক পরা অমিত শাহের গুন্ডাদের আসল চেহারা এটাই। অতিরিক্ত ডিসিপি সন্দীপ লাম্বার মতো অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করা নির্দোষ ছাত্রী-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। অসংখ্য ভিডিওতে দেখা গেছে পুলিশ অফিসাররা নিজেদের ব্যাজ খুলে নাবালকদের— ১২ থেকে ১৪ বছরের শিশুদেরও পেটাচ্ছে। আমরা আরও দেখেছি কিভাবে পুলিশ কর্মীরা নিজেরাই গাড়ির কাঁচ ভাঙছে, পাথর ছুড়ছে এবং সিভিল ড্রেসে থাকা গুন্ডাদের দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করাচ্ছে”।
উল্লেখ্য, ‘সংসদ অভিযান’ বা পার্লামেন্ট মার্চে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সময় এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করলে ১০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী। সমালোচকরা ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসাত্মক ঘটনার তদন্তে সন্দীপ লাম্বার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ওই তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘এক্সেলেন্স ইন ইনভেস্টিগেশন মেডেল’ বা সেরা তদন্তের পদক লাভ করেছিলেন।
