দল ভাঙানোর রাজনীতি বন্ধে আইনি লড়াই: ‘দল মার্জার’ প্রথার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন সিব্বালের

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: সংবিধানের দশম তফসিলকে ব্যবহার করে বিধায়ক ও সাংসদদের দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার প্রচলিত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ কাপিল সিব্বাল। অন্য কোনো পক্ষের হয়ে নয়, স্বশরীরে ‘পার্টি-ইন-পার্সন’ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে এই রিট পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান সিব্বাল। প্রধান বিচারপতি মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে সম্মতি জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার আর্জি জানিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। মামলাটির মূল বিষয় হলো— বর্তমানে দেশে যেভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ ও সংসদের দলগত গঠন পরিবর্তন করা হচ্ছে, তা আদৌ সংবিধানসম্মত কি না? বিশেষ করে সেই প্রেক্ষাপটে সংবিধানের দশম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪-এর বিদ্যমান ব্যাখ্যাকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।” সিব্বাল আদালতকে জানান, একই ধরনের বেশ কিছু মামলা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বিশেষ করে, উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার কয়েকজন সাংসদ একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দেওয়ার পর লোকসভার স্পিকার যে ‘মার্জার’ বা একত্রীকরণের অনুমোদন দিয়েছিলেন, তাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি আবেদন আজই বিচারপতি নরসিমহার বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।

সংবিধানের দশম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন বা দলের একত্রীকরণ ঘটান, তবে তাঁদের ওপর দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হয় না এবং তাঁদের পদ বহাল থাকে। সিব্বালের রিট পিটিশনের মূল বক্তব্য হলো— এই আইনের সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অংশ বা গোষ্ঠীগুলি দল ভেঙে অন্য রাজনৈতিক দলের সাথে ছদ্ম-একত্রীকরণ ঘটিয়ে আইনি শাস্তি বা পদ হারানোর ঝুঁকি থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জনগণের দেওয়া রায় ও গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনার একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ পদ না ছেড়েই বিজেপি বা অন্যান্য শাসক জোটে যোগ দিয়েছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ‘মার্জার’-এর পথ বেছে নিয়েছেন।

এছাড়া, মূল রাজনৈতিক দলের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া কেবল আইনসভার অংশ বা ‘লেজিসলেটিভ উইং’ অন্য দলের সাথে মিশে যেতে পারে কি না— বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চের এমন এক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কংগ্রেসের দায়ের করা একটি মামলাও বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে। কাপিল শিবালের এই নতুন রিট পিটিশনটি দেশের দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!