মহামারীর চেয়েও প্রাণঘাতী দেশের সড়ক দুর্ঘটনা: উদ্বেগে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। প্রতি বছর দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ প্রাণহানি ঘটে, তার সংখ্যা কোনো যুদ্ধ বা মহামারীর ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার জাতীয় রাজধানীতে আইসিআইসিআই লম্বার্ড জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের সামাজিক দায়বদ্ধতা উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত এক সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে নিতিন গড়করি জানান, ভারতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫ লক্ষ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রায় ১.৮ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, মোট মৃতের ৬৬ শতাংশই তরুণ প্রজন্ম, যা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কেবল হেলমেট না পরার কারণে গত এক বছরে ৫৪,১৩২ জন পথচারী ও চালক প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৪৫ শতাংশই ঘটে দুই চাকার যান চালক ও আরোহীদের ক্ষেত্রে। প্রতি ঘণ্টায় ভারতে গড়ে ২০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।

দুর্ঘটনাপ্রবণ বিপজ্জনক সড়ক বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করে তা দূর করতে কেন্দ্র সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এই ধরনের ব্ল্যাক স্পট অপসারণ ও পরিকাঠামো পুনর্গঠনে সরকার ৪০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও খরচ করছে। এছাড়া দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ ১০০টি জেলাকে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি ও নীতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। নিতিন গড়করি একটি বৈপরীত্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, সড়ক পরিকাঠামোর দিক থেকে জাপানকে পেছনে ফেলে ভারত বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আমেরিকা ও চীনের পর তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক নেটওয়ার্কের দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনার রেকর্ড এখনও ভারতের দখলেই রয়েছে। এর বিপরীতে সুইডেনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কড়া শৃঙ্খলা ও আইন বলবৎ করার মাধ্যমে সুইডেন শূন্য মৃত্যুর লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “মানব আচরণই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।” কেবল পরিকাঠামো উন্নয়ন বা পুলিশের কড়াকড়ি দিয়ে দুর্ঘটনা থামানো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না চালক ও পথচারীদের মানসিকতা ও অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটছে।
এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে তাঁর মন্ত্রক দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আইসিআইসিআই লম্বার্ডের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হেলমেট বিতরণ কর্মসূচির প্রশংসা করেন গড়করি। এই কর্মসূচির অধীনে ১৪টি ভিন্ন স্থানে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ২৫,০০০-এরও বেশি আইএসআই-প্রত্যায়িত হেলমেট বিতরণ করে সংস্থাটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়ার প্রচেষ্টা চালায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!