ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পড়শি পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ বলে মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ভারতের বলেও সাফ জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা কী করব বা কী করব না—সে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কারও নেই।”
এদিন চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিদেশমন্ত্রী জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে এপ্রিল মাসে সংঘটিত জঙ্গি হামলার পর—ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। ওই হামলার দায় নেয় দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, যা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (এলইটি) সহযোগী বলে পরিচিত। এরপরই ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাটি গুড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। জয়শঙ্কর বলেন, “আপনার প্রতিবেশী ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ক্ষেত্রে পশ্চিমের প্রতিবেশীটি খারাপ। যখন কোনও দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং অনুতাপহীনভাবে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যেতে চায়, তখন আমাদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে—এবং আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।” তিনি আরও বলেন, “কীভাবে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব, তা একান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না আমরা কী করব বা কী করব না। আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।”
বিদেশমন্ত্রী ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি নিয়েও বক্তব্য রাখেন। তাঁর কথায়, “অনেক বছর আগে আমরা জল বণ্টনের একটি চুক্তিতে সই করেছিলাম। কিন্তু যদি দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাস চলতে থাকে, তাহলে ভাল প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকে না। আর ভাল প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক না থাকলে তার সুবিধাও পাওয়া যায় না। আপনি একদিকে জল চাইবেন, আর অন্যদিকে সন্ত্রাস চালাবেন—এটা একসঙ্গে চলতে পারে না।” ভারতের চারপাশে নানা ধরনের প্রতিবেশী রয়েছে জানিয়ে জয়শঙ্করের মত, “যদি কোনও প্রতিবেশী আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয় বা অন্তত ক্ষতিকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাকে নির্দ্বিধায় সাহায্য করা যায়। ভারত দেশ হিসেবে সেটাই করে থাকে।”
