নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: ডোমকল পুরসভার পুরোনো বিল্ডিংয়ের পাশেই সারি সারি দাঁড় করানো রয়েছে একাধিক গাড়ি। ই-রিকশা থেকে বিভিন্ন মেশিন, স্বর্গরথ থেকে অত্যাধুনিক মানের জঞ্জাল তোলারসহ একাধিক গাড়ি। কোনওটির চুরি গিয়েছে যন্ত্রাংশ কোনওটির আবার অবহেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। অভিযোগ, পুরপ্রশাসনের গাফিলতিতেই দিনের পর দিন ধরে এভাবেই অবহেলায় পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পে পাওয়া কোটি কোটি টাকার পুরসভার গাড়িগুলি।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বছর পাঁচেক আগে বিভিন্ন প্রকল্পে ওই গাড়িগুলি পেয়েছিল পুরসভা। জঞ্জাল পরিবহণের জন্য একাধিক টোটো, অত্যাধুনিক মানের জঞ্জাল তোলার গাড়ি, শবদেহ বহনকারী গাড়িসহ একাধিক গাড়ি। পুরসভা এলাকায় নাগরিক পরিষেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে ওই গাড়িগুলি দেওয়া হয়েছিল পুরসভাকে। এরপরে কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। এখনও চালুই হয়নি গাড়িগুলি। নাগরিক পরিষেবা প্রদানের বদলে গাড়িগুলির এখন ঠাঁই হয়েছে ডোমকলের গঙ্গাদাসপাড়ায় পুরসভার পুরোনো অফিসের পাশের খোলা জায়গায়। ফাঁকা জায়গায় দিনের পর দিন অবহেলায় পড়ে থাকার ফলে নষ্ট হতে যেতে বসেছে একাধিক গাড়ি। তবে শুধুই নষ্ট নয় পুরসভার নজরদারি না থাকার সুযোগে দিনে-দুপুরে চুরি গিয়েছে একাধিক যন্ত্রাংশ।

দাঁড় করে রাখা ই’রিকশাগুলির দিকে ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে, কিভাবে টোটোগুলি থেকে চুরি গিয়েছে ব্যাটারি, সাউন্ড বাক্স, লাইটের মত যন্ত্রাংশ। শুধু চুরিই নয় অবহেলায় অযত্নে পড়ে থাকার সুযোগে সেগুলির কয়েকটিতে ভাঙচুরও চলেছে। অথচ ওইসব গাড়িগুলির বাজারমূল্য নেহাত কম নয়। কয়েকটি গাড়ির দাম আবার কোটি ছুঁইছুঁই। এই যেমন, একটি নামজাদা কোম্পানির জঞ্জাল তোলার হাইড্রোলিক কম্প্যাক্টর গাড়িটি। অত্যাধুনিক মানের এই গাড়িটি বজ্র ব্যবস্থাপনায় বিশেষভাবে সক্ষম। অথচ দিনের পর দিন গাড়িটি চরম অবহেলায় পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। শহরবাসীর অভিযোগ, দিনের পর দিন গাড়িগুলি পড়ে পড়ে নষ্ট হলেও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই পুরসভার। শুধুমাত্র তাঁদের সদিচ্ছার অভাবে গাড়িগুলি এভাবে নষ্ট হচ্ছে। একইসঙ্গে নাগরিক পরিষেবা নিয়েও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।
প্রয়াত ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম কয়েক মাস আগেও পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। সূত্রের খবর, তিনি চেয়ারম্যান থাকার সময়েই ওইগাড়িগুলি পুরসভাকে দেওয়া হয়েছিল। তবে দিনের পর দিন এভাবে পুরসভা চত্ত্বরেই গাড়িগুলি অবহেলায় নষ্ট হওয়ায় ব্যাপক ক্ষুদ্ধ শহরবাসী। রাজু আনসারী নামের বাসিন্দা বলেন, কী বলব দাদা? দেখেই খারাপ লাগে এভাবে পুরসভার চত্ত্বরে দিনের পর দিন গাড়িগুলি নষ্ট হলেও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই পুরসভার। বিন্দু মাত্র সদিচ্ছা থাকলে এতদিন গাড়িগুলি চালু হয়ে যেত। স্থায়ী কর্মী না থাকলে অন্তত অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে গাড়িগুলি সচল রাখা যেত। এত ছোট পুরসভার জন্যও জঞ্জাল তোলার হাইড্রোলিক কম্প্যাক্টর মেশিন গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। অথচ তা পাওয়ার পরেও পুরসভা হাতে ধরে নষ্ট হতে দিচ্ছে। এটা মানা যায়না। পুর প্রশাসককে বলব, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যেন গাড়িগুলিকে পুনরায় সচল করে সেগুলির পরিষেবা শহরবাসীকে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে।
এদিকে ডোমকলের এসডিও তথা পুর প্রশাসক শুভঙ্কর বালা বলেন, গাড়িগুলি চালাতে পারেননি নাকি চালানোর প্রয়োজন মনে হয়নি? – পূর্ববর্তী সময়ে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁরাই সেটার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তবে আমরা ইতিমধ্যেই সেগুলিকে প্রসেস করার কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন জায়গায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেগুলিকে প্রসেস করার কাজ শুরু হয়েছে।
এখন দেখার, প্রশাসনের এই আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা পুরসভার গাড়িগুলি আদৌ নাগরিক পরিষেবায় কাজে লাগে কি না।
