ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার ভোররাতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন”-এর অভিযোগ তুলেছে মাদুরো সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের চাপের অভিযানের পর এই হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টোর দিকে কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং রাজধানীর আকাশে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান দেখা যায়। একাধিক রাজ্যে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, “ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের চালানো এই অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন আমরা প্রত্যাখ্যান, নিন্দা ও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরছি।” এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। পাশাপাশি মার্কিন হামলার প্রতিবাদে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এই বিস্ফোরণ ও হামলার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।
কারাকাসের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট তিউনার কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ইমানুয়েল পারাবাভিস। এল ভাল্লে এলাকার এই ২৯ বছরের যুবক বলেন, “এখন এমন শব্দ শোনা যাচ্ছে যেন মেশিনগান চলছে। একের পর এক বিস্ফোরণ আর গুলির আওয়াজ।” বাসিন্দাদের দাবি, শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একটি সামরিক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং রাজধানীর আরও একটি সামরিক স্থাপনা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন। এক বাসিন্দা কারমেন হিদালগো কাঁপা গলায় বলেন, “পুরো মাটি কেঁপে উঠছিল। এটা ভয়ংকর। আমরা বিস্ফোরণ আর বিমানের শব্দ শুনেছি। মনে হচ্ছিল বাতাস আমাদের শরীরে আঘাত করছে।”
এদিকে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “গোটা বিশ্বকে জানানো দরকার যে ভেনেজুয়েলায় হামলা হয়েছে।” এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) “চলমান সামরিক তৎপরতা”-র কারণে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ জারি করে ভেনেজুয়েলা ও তার উত্তরে অবস্থিত ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
