ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ন্যায্য পারিশ্রমিক, মানবিক কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে বড়দিন ও নববর্ষে দেশজুড়ে ধর্মঘটে নেমেছিল গিগ কর্মীরা। ধর্মঘটের একদিন পরই স্বস্তির খবর মিলল কর্মীদের। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক মঙ্গলবার ‘কোড অন সোশাল সিকিউরিটি (সেন্ট্রাল) রুলস, ২০২৫’ শীর্ষক খসড়া বিধি প্রকাশ করেছে। এই খসড়া বিধিতে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও নথিভুক্তির একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া বিধির প্রধান ১০টি দিক তুলে ধরা হলো—
১. স্বাস্থ্য, জীবন ও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমার মতো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পেতে গিগ কর্মীদের অন্তত ৯০ দিন একটি নির্দিষ্ট অ্যাগ্রিগেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
২. যাঁরা একাধিক অ্যাগ্রিগেটরের সঙ্গে যুক্ত (যেমন—ফুড ডেলিভারি বা রাইড-হেলিং পরিষেবা), তাঁদের ক্ষেত্রে আর্থিক বছরে ন্যূনতম ১২০ দিন কাজ করার শর্ত রাখা হয়েছে।
৩. কোনও কর্মী যেদিন থেকে আয় শুরু করবেন, সেই দিন থেকেই তাঁকে অ্যাগ্রিগেটরের সঙ্গে যুক্ত বলে গণ্য করা হবে। আয় যত কমই হোক, আয় হওয়া প্রতিটি দিন যোগ্যতার হিসেবে ধরা হবে।
৪. একই দিনে যদি কোনও কর্মী একাধিক অ্যাগ্রিগেটরের জন্য কাজ করেন, তবে প্রতিটি কাজ আলাদা দিন হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, একই দিনে তিনটি অ্যাগ্রিগেটরের জন্য কাজ করলে তা তিন দিন হিসেবে ধরা হবে।
৫. ১৬ বছরের বেশি বয়সি গিগ কর্মীদের আধার নম্বর ও প্রয়োজনীয় নথি ব্যবহার করে নথিভুক্ত হতে হবে।
৬. অ্যাগ্রিগেটরদের কেন্দ্রীয় একটি পোর্টালে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের তথ্য জমা দিতে হবে, যাতে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ইউনিক আইডি তৈরি করা যায়।
৭. যোগ্য ও নথিভুক্ত প্রতিটি কর্মীকে ছবি ও অন্যান্য তথ্যসহ ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এই কার্ড নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
৮. কেন্দ্র সরকার একজন আধিকারিক বা কোনও সংস্থাকে অ্যাগ্রিগেটরদের কাছ থেকে আর্থিক অবদান সংগ্রহ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেবে। এই অবদান গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ডে পৃথক হিসাবে রাখা হবে।
৯. কোনও নথিভুক্ত কর্মীর বয়স ৬০ বছর হলে, অথবা একক অ্যাগ্রিগেটরের ক্ষেত্রে টানা ৯০ দিন এবং একাধিক অ্যাগ্রিগেটরের ক্ষেত্রে শেষ আর্থিক বছরে টানা ১২০ দিন কাজ না করলে, তিনি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য থাকবেন না।
১০. অসংগঠিত ক্ষেত্রের জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা বোর্ডে কেন্দ্র সরকার গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন প্রতিনিধি মনোনীত করবে, যাতে বিভিন্ন শ্রেণির গিগ কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।
এদিকে খসড়া বিধি প্রকাশের মাধ্যমে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পথে কেন্দ্র সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
