TOP NEWS

বিজেপির বিদ্বেষের ফল বাঙালি শ্রমিক খুন: জুয়েলের মৃত্যুতে পদ্ম শিবিরকে তোপ তৃণমূলের

(Photo Courtesy: X)

ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: ওড়িশায় মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের গণপিটুনি ও খুনের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। ওড়িশায় এক বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের বিরুদ্ধে চলা লাগাতার হয়রানির ফল বলেই তোপ দাগল ঘাসফুল শিবির।

ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী জুয়েল রানাকে খুনের ঘটনায় বিজেপির বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার দিকেই আঙুল তুলেছে তৃণমূল। শাসক দল বলেছে, এই ঘটনা বাঙালি ভাষাভাষী ভারতীয়দের “অনুপ্রবেশকারী” ও “বাংলাদেশি” হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা প্রতিফলন। জুয়েলকে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করেছে একদল জনতা। তৃণমূলের বক্তব্য, “সম্বলপুরে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা বিজেপির বাঙালি বিরোধী ধারাবাহিক প্রচারের সরাসরি ফল। এক ভারতীয় নাগরিককে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তারা সর্বদা বাঙালিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দেখে। তাদের প্রতিনিয়ত নিজেদের নাগরিক হওয়ার প্রমাণ করতে হচ্ছে।”

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম বলেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে, বিশেষ করে ওড়িশায় বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হিংসার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যের বাইরে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। এই বিষয়টি নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।”

Read More: ওড়িশায় ফের খুন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক

উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান মুর্শিদাবাদের জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিলেন। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাদের নির্মম ভাবে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েল রানার। বাকি দু’জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে লাগাতার বাংলার শ্রমিকদের গণপিটুনি, হেনস্থা ও মারধরের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গেরুয়া শিবিরের বাঙালি বিদ্বেষী ও বাংলা বিরোধী মনোভাব নিয়ে বারবার সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবির। এর আগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বারবার হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!