TOP NEWS

ওড়িশায় ফের খুন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক, ‘সব শেষ হয়ে গেল’ আর্তনাদ মায়ের

(নিহত জুয়েল রানা || Photo Courtesy: Facebook)

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: বিজেপি শাসিত ওড়িশায় ফের আক্রান্ত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গণপিটুনির জেরে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম জুয়েল রানা। বয়স ২১ বছর। তিনি মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চক বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা। আহত হয়েছেন- আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেন। তাঁরা প্রত্যেকেই মুর্শিদবাদের বাসিন্দা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার সম্বলপুর জেলায়।

জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ২০ তারিখ ওড়িশার সম্বলপুরে যান জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিল। পাশের ঘরে ছিলেন আরও পাঁচ জন শ্রমিক। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। তিনজনকে ঘিরে ধরে নির্মম ভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে বলে জানা গিয়েছে। বাকি দুই পরিযায়ী শ্রমিক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সম্বলপুর থানার পুলিশ।

আরিক নামের এক শ্রমিক বলেন, গত পাঁচ দিন আগে ওড়িশায় সম্বলপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন জুয়েল। বুধবার রাতে হঠাৎ দুষ্কৃতীরা এসে আমাদের পরিচয় জানতে চাই। আমরা সবকিছু দেখায়। বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তারা মানতে চাইনি। আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেয়। শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আমাদের নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।

(মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন আত্মীয়রা। || Photo Courtesy: Facebook)

অভিযোগ, একুশ বছর বয়সী জুয়েল রানাকে সব থেকে বেশি মারধর করা হয়। জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে সেই অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জুয়েল সহ বাকি দু’জনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েলের। মৃত জুয়েলের মা নাজিমা বিবি ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, “ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। ওকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।”

পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস। তিনি জানান, ঘটনায় অভিযুক্ত ছয় জন গ্রেফতার হয়েছে এবং পরিবারকে সবরকম সহায়তা করা হবে। ইমানির বক্তব্য, “এই ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসার জন্য আমরা ব্যবস্থা করছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতৃত্ব পরিবারের পাশে সব রকম ভাবে সাহায্য করবে।”

(পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস ও প্রশাসনের কর্তারা। || Photo Courtesy: Facebook)

আহত সানোয়ার হোসেনের বাবা মরফুল সেখ জানান, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। ছেলে পেটের দায়ে বাইরে কাজে গিয়েছে। সে তো কোনও অন্যায় করেনি। তাহলে কেনো গণপিটুনি দেওয়া হল। খবর পেয়েছি ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্য ওড়িশায় বাঙালি মুসলিমদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বুধবার রাতে জুয়েল রানা নামে এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত। বিজেপি বাংলা বিরোধী, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম বিরোধী। বিজেপি মুসলিমদের টার্গেট করছে। যাতে বিজেপির হাতে কোনও বাঙালি হেনস্তার শিকার না হয়, তার জন্য সবাইকে ভাবতে অনুরোধ করছি।”

One thought on “ওড়িশায় ফের খুন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক, ‘সব শেষ হয়ে গেল’ আর্তনাদ মায়ের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!