নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের প্রাণ হারিয়েছেন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিক। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক যুবককে ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে শুক্রবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। দফায় দফায় জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং রেললাইন স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ও জনরোষ
মৃত শ্রমিকের পরিচয় জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বারবার ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের ধর্মীয় পরিচয় দেখে টার্গেট করা হচ্ছে। “কেন আমাদের ভাইদের এভাবে খুন হতে হবে?”—এই প্রশ্ন তুলে এদিন বেলডাঙায় দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পরে জেলার শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
Read More: ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিককে ‘খুন’, রণক্ষেত্র বেলডাঙা
জেলাশাসকের বড় পদক্ষেপ ও আশ্বাস
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জেলাশাসক নিতীন সিংহানিয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়। সেই দাবি মেনে নিয়ে জেলাশাসক দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি জানান:
২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম: পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তায় জেলা স্তরে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।
লিগাল টাস্ক ফোর্স: শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা দিতে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে।
সরকারি আইডি কার্ড: জেলার প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য সরকারি পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
বাস্তবায়িত হলো প্রতিশ্রুতি: হেল্পলাইন নম্বর জারি
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে গিয়ে নিজের মৌখিক আশ্বাসকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিলেন জেলাশাসক। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ভরসা জোগাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগ নম্বর (Helpline) প্রকাশ করা হয়েছে। জরুরি হেল্পলাইন নম্বর: ৫৯০৯১৩৭৮৮৩৭ (59091378837)
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুর্শিদাবাদের কোনো পরিযায়ী শ্রমিক যদি ভিন রাজ্যে হেনস্থা, মারধর বা কোনোভাবে হয়রানির শিকার হন, তবে দেরি না করে সরাসরি এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশাল অংশ প্রতি বছর রুটিরুজির টানে বাইরে পাড়ি দেন। ভিন রাজ্যে বিপদে পড়লে তাঁরা কোথায় যোগাযোগ করবেন, তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না। প্রশাসনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার এখন থেকে সরাসরি সরকারি সাহায্য দাবি করতে পারবেন। এই তথ্যটি প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
