ডেইলি ডোমকল, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত এবার চরমে পৌঁছাল। আইপ্যাক মামলার শুনানির প্রাক্কালে সুপ্রিম কোর্টে একটি নতুন আবেদন জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় এই সংস্থা সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) রাজীব কুমারের সাসপেনশন এবং রাজ্যের বেশ কয়েকজন পদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ:
শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি অভিযোগ করেছে যে, তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা চরম অসহযোগিতা ও অপেশাদার আচরণ করেছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানিয়েছে, যেন কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দপ্তর (DoPT) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইডির পক্ষ থেকে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থল ছাড়ার আগে সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস এবং তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিজের দখলে নিয়ে নেন। এরপর একটি ‘ইনসিডেন্ট রিপোর্ট’ তৈরি করা হয়েছিল। ইডির দাবি, ওই নথিপত্রগুলি পুলিশ মহানির্দেশক ও পুলিশ কমিশনারকে দেখানো সত্ত্বেও সেই তথ্যপ্রমাণগুলো নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়। ইডি আদালতকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, এত কিছুর পরেও আইপ্যাকের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পাল্টা যুক্তি কপিিল সিব্বলের:
তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে জানান, আইপ্যাক কী ধরনের সংস্থা তা সকলেরই জানা। তিনি সওয়াল করেন যে, এই মামলার শুনানি প্রথমে উচ্চ আদালতে হওয়া উচিত। সিব্বলের মতে, হাইকোর্ট অনুচ্ছেদ ২২৬-এর অধীনে আগে মামলার রায় দিক, তারপর পক্ষগুলি উচ্চতর আদালতে আসতে পারে। আইনি শ্রেণিবিন্যাস ভেঙে কেন সমান্তরাল প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সিব্বল আরও দাবি করেন, আইপ্যাকের কাছে দলের বিপুল পরিমাণ গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে। ইডি যখন সেখানে অভিযানে যায়, তারা জানত যে সেখানে রাজনৈতিক দলের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য মজুত আছে। আইপ্যাক তল্লাশি এবং রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ইডির এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এখন দিল্লির আইনি অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজনৈতিক মহল—সর্বত্রই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
