TOP NEWS

প্রতিশ্রুতি অনেক, কাজ শূন্য: দেড় ফুটের নড়বড়ে সাঁকোই ভবিতব্য দুই গ্রামের মানুষের

(এই নড়বড়ে বাঁশের সেতু দিয়েই যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। || নিজস্ব চিত্র)

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মাত্র দেড় ফুট চওড়া নড়বড়ে বাঁশের সেতু। তার ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিন যাতায়াত করছেন মানুষ। শুধু তাই নয়, ওই সেতু দিয়েই স্কুলে যাচ্ছে পড়ুয়ারাও। অথচ বছরের পর বছর ধরে ওই অংশে পাকা সেতুর দাবি উঠলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ডোমকল ব্লকের মানিকনগর ও বর্তনাবাদ এলাকার মধ্যে সংযোগকারী শিয়ালমারি নদীর ওপর বাঁশের সেতু ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডোমকল ব্লকের মানিকনগর ও বর্তনাবাদের মাঝামাঝি এলাকায়, বর্তনাবাদ হাটের পাশেই মজে যাওয়া শিয়ালমারি নদীর ওপর রয়েছে ওই বাঁশের সেতুটি। নদীর একপারে মানিকনগর গ্রাম, অন্যপারে বিস্তীর্ণ বর্তনাবাদ এলাকা। নদীর ধারে রয়েছে বর্তনাবাদ হাট, কিছুটা দূরে স্কুল ও বাজার। অপরদিকে মানিকনগর অংশে রয়েছে প্রায় শতাধিক বাড়ি ও একটি ইটভাটা। প্রতিদিন বর্তনাবাদের বহু মানুষ ইটভাটা, চাষবাস বা অন্যান্য কাজে নদী পেরিয়ে মানিকনগরের দিকে যান। আবার মানিকনগরের বাসিন্দারাও ওই বাঁশের সেতু পেরিয়ে বর্তনাবাদে আসেন নানা কাজে। সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়ে পড়ুয়ারা। মানিকনগরের দিকের বহু স্কুলপড়ুয়া ঝুঁকিপূর্ণ ওই বাঁশের সেতু পেরিয়ে বর্তনাবাদ বিএমএফ হাই স্কুল-সহ আশপাশের স্কুলে পড়াশোনা করতে আসে।

মাত্র দেড় ফুট চওড়া ওই সেতুতে একসঙ্গে দু’জনের চলাচল প্রায় অসম্ভব। বর্ষার সময় নদীতে জল বাড়লে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেক অভিভাবকই তখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না পেরিয়ে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে হলে প্রায় ছ’কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই দুই পাড়ের বাসিন্দারা বাঁশের সেতুর বদলে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অভিযোগ, প্রতিবার ভোট এলেই নেতাদের তরফে আশ্বাস মেলে। কিন্তু ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি কার্যত বিশবাঁও জলে। স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার শেখ বলেন, আমরাই চাঁদা তুলে এই বাঁশের সেতু তৈরি করেছি। সবাই এই সেতু দিয়েই যাতায়াত করে। ভোটের আগে নেতারা সেতু করে দেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু ভোট মিটলে আর কাউকে দেখা যায় না। আমরা চাই দ্রুত পাকা সেতু তৈরি হোক। স্কুল পড়ুয়া রাহুল মণ্ডল জানায়, এই বাঁশের সেতু পেরিয়ে স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। আমার এক বন্ধু একবার পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। তখন জল কম ছিল, তাই বেঁচে গিয়েছিল ও। বর্ষার সময় মাঝেমধ্যেই স্কুলে যেতে পারি না।

এ বিষয়ে ডোমকল পুরসভার প্রশাসক তথা ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা বলেন, এখনও পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!