নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: কথা রেখে ওড়িশায় খুন হওয়া নিহত জুয়েল রানার পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নিহত যুবকের মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন জঙ্গিপুর লোকসভার তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান।
জুয়েল রানার অকাল প্রয়াণে শোকাহত পরিবারের হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি, পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বাংলার মানবিক মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার নিহত যুবকের মায়ের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন খলিলুর রহমান।
জানা গিয়েছে, সুতি-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার (BLRO) অফিসের অ্যাটেন্ডেট পদে তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার জুয়েল রানার মা ওই পদে যোগদান করবেন। তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, “গত ১ জানুয়ারি নিহতের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং কিছু আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করি। পাশাপাশি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কথামত পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিই। সেমত মঙ্গলবার নিহতের মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলাম।” এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য সরকারের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রাজ্য সরকারের অঙ্গীকার।
Also Read: ওড়িশায় ফের খুন মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক, ‘সব শেষ হয়ে গেল’ আর্তনাদ মায়ের
উল্লেখ্য, ২০ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান মুর্শিদাবাদের জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক। সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ঘরে জুয়েল, আতিউর রহমান ও সানোয়ার হোসেনরা রান্না করছিলেন। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী তাদের ওপর চড়াও হয়। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে তাদের নির্মম ভাবে মারধর ও গণপিটুনি দেওয়া হয়। রক্তাক্ত হয়ে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় জুয়েল রানার।
