TOP NEWS

‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় নির্মমতা, বিহারে ৩ কিমি গ্রাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নির্মম মার আলমকে

(আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আলম। || Image Credit: X)

ডেইলি ডোমকল, পাটনা: ফের গণপিটুনির শিকার মুসলিম ব্যক্তি। এবার ঘটনাস্থল নীতিশের বিহার। জানা যায়, নির্মাণ শ্রমিক নুরশেদ আলমকে ঘিরে ধরে নির্মমভাবে মারধর করেছে হিন্দুত্ববাদী। অভিযোগ, আলমকে জোর করে “জয় শ্রীরাম” ও “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। ওই স্লোগান দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এমনকি প্রায় দুই কিলোমিটার ধরে গ্রামে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মারধর করা হয়। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের রাজনগর থানা এলাকার নন্দীচকদা গ্রামে।

জানা গিয়েছে, সুপৌল জেলার পরমানন্দ গ্রামের বাসিন্দা নুরশেদ আলম ওই এলাকায় দীর্ঘদিন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মঙ্গলবার কাজ শেষে ঘরে ফিরে পাশের একটি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে এক ব্যক্তি তার পথ আটকায়। তারপরই আলমকে “ভারত মাতা কি জয়” ও “জয় সীতারাম” স্লোগান দিতে বলেন। তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ বললেও মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় “জয় সীতারাম” বলতে অস্বীকার করেন। তখন ওই ব্যক্তি তার ভিডিয়ো করতে শুরু করেন। আলমের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে ফের হুমকি দেয় এবং “জয় সীতারাম” স্লোগান বলাতে বাধ্য করেন।

অভিযোগ, পরদিন দুপুরে কাজ থেকে ফেরার সময় দোকানের কাছে দুই-তিনজন তাঁকে ধরে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হঠাৎ সাত-আট জনের হিন্দুত্ববাদী দল তাকে মারধর শুরু করেন। প্রথমে কয়েকজন হামলাকারী থাকলেও গ্রাম ঘোরানোর সময় আরও লোক জড়ো হয়। মারধরের সময় তাঁর গলা ও মুখ থেকে রক্ত বেরোতে থাকে। আলম বলেন, “কলার ধরে আমাকে মারতে শুরু করে। সামনে থেকে দু’জন, পিছন থেকে আরেকজন মারছিল। মারতে মারতে ২-৩ কিলোমিটার গ্রাম ঘোরায়। কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।” আলমের আরও দাবি, “আমাকে কালীমন্দিরে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারার কথা বলে। পরে আরেক জায়গায় ভিড়ের সামনে আবার মারধর করে।”

ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পূর্ণিয়ার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আলম। তার মাথায় একাধিক আঘাত লেগেছে, মুখ ও হাত ফুলে গিয়েছিল। যদিও রাজনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। পুলিশ বলেছে, অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে।

এদিকে সমাজকর্মী জিয়াউল হক বলেন, “ঘটনার সময় আলমের সঙ্গে থাকা আরও চারজন শ্রমিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তারা লোকজন নিয়ে ফিরে এসে আলমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।” সমাজকর্মীর কথায়, “আলমকে তাঁর চেহারা—বিশেষত দাড়ির কারণে—টার্গেট করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশি’ বলে কারও সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে জানাতে পারত। একজন সাধারণ নিরীহ মানুষকে এভাবে আক্রমণ করে আহত করা উচিত নয়। তাছাড়া সংবিধান কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে ঘোষণা করার অধিকার দেয়নি?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!