ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল ২০২৫ প্রত্যাহার এবং ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) আইনি গ্যারান্টিসহ একাধিক দাবিতে ফের আন্দোলনের পথে নামলেন পাঞ্জাবের কৃষকরা। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার (SKM) ডাকে রবিবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন পাঞ্জাবের শতাধিক স্থানে বিশাল ট্রাক্টর মিছিল বের করেন কৃষকরা। ২০২১ সালের স্মৃতি উসকে দিয়ে এদিনের ট্রাক্টর মার্চ থেকে কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন। যার মধ্যে প্রধান হলো- বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং বীজ বিল ২০২৫-এর প্রত্যাহার। শ্রম কোড বাতিল এবং মনরেগা (MGNREGA) প্রকল্পের পুনর্বহাল। ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) আইনি স্বীকৃতি।
বিকেইউ (লাখোয়াল) গোষ্ঠীর প্রধান হরিন্দর সিং লাখোয়াল জানান, রাজ্যের ১০০টিরও বেশি স্থানে এই মিছিল হয়েছে। তিনি নিজে লুধিয়ানার কাছে সামরালায় একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি জেলার ৪-৫টি করে শহরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে আগামী ৩০ জানুয়ারি লুধিয়ানায় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে।”
অল ইন্ডিয়া কিষাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রেম সিং ভাঙ্গু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার আমেরিকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “সরকার কৃষিক্ষেত্রকে পুরোপুরি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিতে চাইছে। এই বেসরকারিকরণ ও কেন্দ্রীয়করণ নীতি দেশের কৃষি ক্ষেত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে দেবে।”
হোশিয়ারপুরে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন, তার অদূরেই মুকেরিয়ান শহরে ট্রাক্টর মিছিল করেন দোয়াবা কিষাণ কমিটির সদস্যরা। ভাঙ্গালা শস্য বাজার থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল এসডিএম (SDM) অফিসসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া দাসুয়া, গড়দিওয়ালা ও টাণ্ডাতেও কয়েকশো ট্রাক্টর নিয়ে কৃষকরা শক্তি প্রদর্শন করেন।
দোয়াবা কিষাণ কমিটির সভাপতি জংবীর সিং চৌহান অভিযোগ করেন, সরকার সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি হাতে তুলে দিয়ে কৃষিবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেই সঙ্গে সারের কালোবাজারি রুখতে ডিলারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভের আঁচ পড়ে লুধিয়ানার লাধোয়াল টোল প্লাজাতেও। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত না করা এবং লুধিয়ানার রাহোঁ রোডের বেহাল দশার প্রতিবাদে কৃষকরা এই টোল প্লাজাকে সর্বসাধারণের জন্য ‘ফ্রি’ বা টোলমুক্ত করে দেন। ভারতীয় কিষাণ মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি দিলবাগ সিং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রশাসন আমাদের দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই টোল প্লাজা দিয়ে যাতায়াত বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে।” প্রজাতন্ত্র দিবসের এই কর্মসূচি আবারও প্রমাণ করল যে, কৃষি আইন প্রত্যাহারের পরেও পাঞ্জাবের কৃষকদের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।
