TOP NEWS

কেরল হাইকোর্টের বিচারপতির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বার কাউন্সিল, প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: কেরল বার কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির “ভিত্তিহীন ও অবিবেচনাপ্রসূত” মৌখিক মন্তব্যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে একটি চিঠি লিখেছেন বিসিআই চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র। তাঁর অভিযোগ, বিচারপতির এই ধরণের মন্তব্য বার এবং বেঞ্চের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

গত ২৬ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে বিসিআই চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, কেরল বার কাউন্সিল নির্বাচনে মনোনয়ন ফি-র চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময় ওই মন্তব্যগুলো করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে বার কাউন্সিল নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পিটিশন হাইকোর্ট বা অন্য কোনো নিম্ন আদালত গ্রহণ করতে পারবে না। তা সত্ত্বেও এই মামলার শুনানি হওয়া এবং সেখানে বিসিআই-এর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করা অনভিপ্রেত। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “বিচারবিভাগের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে আমরা অনেক সময় আদালতের নানা ত্রুটি বা বাড়াবাড়ি দেখেও নীরব থাকি। কিন্তু আমাদের এই সংযমকে যেন দুর্বলতা বা নতি স্বীকার হিসেবে ভুল করা না হয়।”

মনোনয়ন ফি হিসেবে নির্ধারিত ১.২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিসিআই সাফ জানিয়েছে, এই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট রাজ্য বার কাউন্সিলের তহবিলে যায়। বিসিআই এর থেকে কোনো ভাগ পায় না। এছাড়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই কাঠামো সুপ্রিম কোর্ট আগেই অনুমোদন করেছে। বিসিআই চেয়ারম্যান জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের যাতায়াত, আবাসন ও সাম্মানিক বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই বিপুল পরিমাণ খরচ সম্পূর্ণভাবে আইনজীবী সমাজের নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হয়, কোনো সরকারি সাহায্য নেওয়া হয় না।

চিঠিতে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন এই ধরনের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং হাইকোর্টগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়। বিসিআই চেয়ারম্যান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি এই ধরণের আক্রমণ চলতেই থাকে, তবে আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলো আইনসম্মত গণ-প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!