TOP NEWS

“গান্ধীর আদর্শকে ভয় পায় সঙ্ঘ পরিবার”: প্রয়াণ দিবসে তোপ পিনারাই বিজয়নের

ডেইলি ডোমকল, তিরুবনন্তপুরম: মহাত্মা গান্ধীর ৭৮তম প্রয়াণ দিবসে সঙ্ঘ পরিবারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শুক্রবার বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি অভিযোগ করেন, হিন্দুত্ববাদী শক্তি গান্ধীর আদর্শকে ভয় পায় এবং জনমানস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এবং বৈচিত্র্যময় ভারতের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ভয়ের সেই একই মানসিকতা থেকেই ১০০ দিনের কাজ বা ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প’ থেকে বাপুর নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

প্রশ্ন তুলে বিজয়ন বলেন, মহাত্মার জীবন ও মূল্যবোধ সঙ্ঘ পরিবারের “বিদ্বেষ ও বর্জনের রাজনীতি”-র সম্পূর্ণ বিরোধী। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে গান্ধীকে সরিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন। পিনারাই বিজয়নের কথায়, “গান্ধীজিকে কেবল নাথুরাম গডসে হত্যা করেনি, তাঁকে হত্যা করেছিল একটি বিশেষ উগ্র আদর্শ, যা আজও ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানছে।”

কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রদায়িক খুনিদের মহিমান্বিত করে এবং ইতিহাস নতুন করে লিখে দেশটিকে স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভারতের প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি হলো বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, যা বর্তমানে ‘একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতা’র কারণে হুমকির মুখে।

মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি. ডি. সতীশন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাপুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সঙ্ঘ পরিবার গান্ধীর স্মৃতিটুকু পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না। ঐতিহাসিক সত্য আড়াল করতে পাঠ্যপুস্তক থেকে গান্ধীর লেখা বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি তোপ দাগেন। সতীশন যোগ করেন, “গান্ধীকে স্তব্ধ করার হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর আদর্শ আজও অম্লান।” ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহানায়ক। তাঁর ৭৮তম প্রয়াণ দিবসে কেরল প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!