TOP NEWS

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে হবে না কাজ, এসআইআর নিয়ে কঠোর নির্বাচন কমিশন

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমার আগরওয়ালকে লেখা এক চিঠিতে কমিশন তাদের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে।

প্রস্তাব খারিজ করল কমিশন:

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে ভোটারদের সুবিধার্থে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকের পর সিইও-র দফতর থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু কমিশন সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর-এর ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কোনোভাবেই পরিচয়পত্র বা বয়সের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।

বৈধ ১৩টি নথির তালিকা:

নির্বাচন কমিশন ইতিপূর্বেই ১৩টি নথির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় বৈধ বলে বিবেচিত হবে। এই নথিগুলি হলো:

১. কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার প্রদত্ত পরিচয়পত্র।
২. পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO)।
৩. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ইস্যু করা যেকোনো নথি।
৪. জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate)।
৫. পাসপোর্ট।
৬. শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র (অ্যাডমিট কার্ড ব্যতিরেকে)।
৭. স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র (PRC)।
৮. বন অধিকার আইন অনুযায়ী প্রদত্ত শংসাপত্র।
৯. জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)।
১০. এনআরসি-র (NRC) অন্তর্ভুক্ত নাম।
১১. বংশতালিকা বা ফ্যামিলি ট্রি সার্টিফিকেট।
১২. সরকার প্রদত্ত জমির নথি বা দলিল।
১৩. আধার কার্ড (তবে এটি কেবল একটি সহায়ক নথি হিসেবেই ব্যবহার করা যাবে। আধার কার্ডের পাশাপাশি তালিকায় থাকা অন্য ১১টি নথির যেকোনো একটি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক)।
কেন এই শুনানি?

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকায় ‘নো-ম্যাপিং’ এবং গণনাকরণ ফর্মে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এর ফলে খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের একটি অংশকে নতুন করে শুনানির জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় ভোটারদের কমিশনের নির্ধারিত তালিকার যেকোনো একটি নথি পেশ করতে হবে। সেই নথি যাচাই করার পরই তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!