নিজস্ব সংবাদদাতা, সামশেরগঞ্জ: এসআইআর (SIR) জেরে ফের মৃত্যু। শুনানির নোটিশ এবং নথি সংক্রান্ত প্রবল মানসিক চাপের জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো এক বৃদ্ধের। বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের রামেশ্বরপুর চাচণ্ড গ্রামে। মৃতের নাম পুটু শেখ (৬০)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পুটু শেখের পরিবারের সদস্যদের নামে এসআইআর শুনানির নোটিশ আসে। কিন্তু সেই নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই প্রবল আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ। অভিযোগ, নোটিশে তাঁর নামের বানানেও ভুল ছিল। ‘পুটু’-র পরিবর্তে সেখানে লেখা হয়েছিল ‘পুট’। এই সাধারণ নামের ভুল সংশোধন হবে কি না এবং নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো টানাপড়েন তৈরি হবে কি না— সেই চিন্তায় গত কয়েকদিন ধরে তিনি কার্যত খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ছিল পুটু শেখের পরিবারের সদস্যদের সামশেরগঞ্জ বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজিরার দিন। সেই মতো পরিবারের বাকিরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বিডিও অফিসে যান। বাড়িতে একা ছিলেন বৃদ্ধ। শুনানি চলাকালীনই খবর আসে পুটু শেখ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি বিডিও অফিস থেকে বাড়ি পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়। বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
বিডিও অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের পুত্রবধূ বিউটি খাতুন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা এখানে হেয়ারিং-এ এসেছিলাম। হঠাৎ শুনলাম শ্বশুরমশাই মারা গিয়েছেন। এই এসআইআর-এর চাপেই সব হলো। নোটিশ আসার পর থেকেই উনি খুব দুশ্চিন্তা করছিলেন।”
রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি কাজ করছে, সামশেরগঞ্জের এই মৃত্যু সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য নামের ত্রুটি বা নথি যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাতে বয়স্ক মানুষরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। সামশেরগঞ্জের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভও দেখান গ্রামবাসীদের একাংশ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মৃত্যু নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে, এই ‘অমানবিক’ শুনানি প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ না করলে রাজ্যে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
